27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসোনারগাঁয়ে বাদি পরিবারের ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত, মামলার বাদীর মা অভিযোগ দায়ের

সোনারগাঁয়ে বাদি পরিবারের ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত, মামলার বাদীর মা অভিযোগ দায়ের

নরায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ২৮ ডিসেম্বর রবিবার দুপুরে বাদি পরিবারের ছেলে সজিব মিয়া হঠাৎ এক গোষ্ঠীর আক্রমণে গুরুতর আঘাত পায়। ঘটনাস্থল ছিল পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকা, যেখানে শিকারের সময় তাকে ছুরি, চাপাতি, রামদা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। আক্রমণের পিছনে পূর্বে একই পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান এক হত্যামামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আহত সজিব মিয়াকে স্থানীয় সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আহতের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা দল তাকে জরুরি শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালন প্রদান করেছে। রোগীর মা সেতেরা বেগম বাদি, যিনি স্থানীয় সমাজে পরিচিত, ঘটনাস্থল থেকে সজিবকে উদ্ধার করার পরই হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

সেতেরা বেগম বাদি বিকেলে সোনারগাঁ থানা-ইন-চিফের কাছে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্বে মামলায় জড়িত বাদি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকি ও গালাগালি করা হচ্ছিল এবং এই আক্রমণটি সেই হুমকির ধারাবাহিকতা। তিনি তদুপরি জানিয়েছেন যে, তার স্বামী ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগে আছেন।

পটভূমিতে রয়েছে ২০২২ সালের ২৬ জুলাই হুমায়রা আক্তার নামের এক নারী, যিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর নদীর পাশে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জিয়াউর রহমানের মেয়ে হিসেবে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চেঙ্গাকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী, তার পুত্র সেলিম (উদয় নামে পরিচিত), মো. জিহাদ এবং সেলিনা বেগমকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

শুক্কুর আলীর পুত্র সেলিম উডয়, যাকে সেলিম মিয়া নামেও জানা যায়, দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে জামিনে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকে তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা বাদি পরিবারের ওপর হুমকি চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে, সেতেরা বেগমের ছেলে চাকরির কারণে একই ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় আসার সময় আক্রমণটি পরিকল্পিত হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আক্রমণের সময় সেলিমের নেতৃত্বে জিহাদ, শুক্কুর আলী ও সেলিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, রামদা ও লোহার রড ব্যবহার করে সজিব মিয়াকে মারধর করেন। আক্রমণকারীরা প্রথমে সজিবকে গুলি না করে শারীরিকভাবে আঘাত করে, যা তাকে তীব্র রক্তক্ষরণ ও হাড় ভাঙার দিকে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আহতকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহত সজিবের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। তবে সেলিমের পিতা শুক্কুর আলীর সঙ্গে যোগাযোগে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে, তার পুত্রের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এই বিবৃতি সত্ত্বেও পুলিশ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষী সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি আদেশ জারি করা হতে পারে এবং মামলাটি দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো আক্রমণের সুনির্দিষ্ট প্রেরণা ও পরিকল্পনা নির্ধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে রক্তের নমুনা, অস্ত্রের ধরন এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও রেকর্ডিংসহ অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, সেতেরা বেগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশি তদারকি প্রদান করা হয়েছে। মামলাটি স্থানীয় আদালতে দাখিলের পর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, যেখানে অভিযুক্তদের জামিনের শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments