ডেইজি রিডলি, ‘স্টার ওয়ার্স’ সিরিজের হান সোলোর পরিচিত মুখ, ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে নতুন জোম্বি থ্রিলার ‘We Bury the Dead’ এ প্রধান চরিত্রে ফিরে এসেছেন। এই ছবিটি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা জ্যাক হিলডিচের পরিচালনায় তৈরি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট (SXSW) উৎসবে ২০২৫ সালে প্রথম প্রদর্শিত হয়। রিডলির এই পদক্ষেপটি তার স্টার ওয়ার্স প্রকল্পের অপেক্ষায় থাকা সময়ে স্বাধীন সিনেমা জগতের প্রতি তার অঙ্গীকারকে পুনরায় জোরদার করে।
স্টার ওয়ার্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডিক্সি ও লুকাসফিল্মের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় থাকা রিডলি, গত বছর ‘ইয়ং ওম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নামে ডিক্সি প্রযোজিত একটি স্পোর্টস বায়োপিকেও মুক্তি দিয়েছেন, যা সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তার কাজের তালিকায় প্রতি বছর এক থেকে দুইটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের উপস্থিতি রয়েছে, যা তাকে হলিউডের বড় স্টুডিও প্রকল্পের পাশাপাশি স্বতন্ত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করেছে।
‘We Bury the Dead’ ছবির কাহিনী অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপে ঘটতে পারে এমন এক কাল্পনিক দুর্যোগকে কেন্দ্র করে। রিডলি অভিনীত আভা নিউম্যান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাসমানিয়ায় যাত্রা করে তার স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তার স্বামী মিচ, একই সময়ে দ্বীপে একটি কাজের রিট্রিটে ছিলেন, যা হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি সামরিক অস্ত্র পরীক্ষার কারণে ধ্বংস হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি গোপন অস্ত্র পরীক্ষা তাসমানিয়ার জনসংখ্যাকে একসাথে ধ্বংস করে, ফলে মৃতদেহের স্তূপ বা ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে ওঠা জোম্বি গোষ্ঠী গঠিত হয়। এই বিশাল বিপর্যয় আভার স্বামীকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এবং তার অনুসন্ধানকে আরও জটিল করে তোলে। ছবিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি বৃহত্তর মানবিক সংকটের সঙ্গে মিলিত হয়ে এক নতুন বেঁচে থাকার গল্প গড়ে তোলে।
আভার বিবাহিক সম্পর্ক ইতিমধ্যে সন্তান ধারণের সমস্যার কারণে টানাপোড়েনের মুখে। দম্পতি বহু বছর ধরে প্রজনন সহায়তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছেন, তবে ফলাফল না পেয়ে তাদের সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি আভার জন্য কেবল শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যা তাকে স্বামীকে খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি নিজের অতীতের সঙ্গে সমাপ্তি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায়।
রিডলি নিজে এই থিমের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত, কারণ তিনি তার পারিপার্শ্বিক মানুষদের মধ্যে IVF প্রক্রিয়ায় থাকা কয়েকজনকে জানেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রজনন চিকিৎসা কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ও দম্পতির সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। এই অভিজ্ঞতা তাকে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে আরও বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করেছে।
রিডলির মতে, এই ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছবিতে প্রতিফলিত হওয়ার সময় তার জন্য একটি নতুন আবেগগত স্তর উন্মোচিত করে। তিনি জানান যে, স্বামীকে পুনরায় খুঁজে পাওয়ার তাগিদ এবং সন্তান না হওয়ার বেদনা একসাথে মিশে একটি তীব্র অনুভূতি তৈরি করে, যা তিনি তার অভিনয়ে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। এই অনুভূতি ‘We Bury the Dead’ ছবির মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে হারিয়ে যাওয়া ও পুনরুদ্ধারের দ্বন্দ্বকে জোর দেওয়া হয়েছে।
‘We Bury the Dead’ ছবির প্রিমিয়ার ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং ইতিমধ্যে সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। ছবিটি জোম্বি ঘরানার প্রচলিত রূপকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যেখানে মানবিক দুঃখ ও আশা একসঙ্গে মিশে থাকে। রিডলির পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তিনি চরিত্রের ভয়, দৃঢ়তা এবং অন্তর্দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন।
মে ২০২৫-এ রিডলি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করেন, যেখানে তিনি অ্যালডেন এরেনরাইচের সঙ্গে রোমান্টিক কমেডি শুটিং শেষ করেন। অ্যালডেন, যিনি ‘হান সোলো: এ স্টার ওয়ার্স স্টোরি’ ছবিতে হান সোলোর ভূমিকায় পরিচিত, রিডলির সঙ্গে স্ক্রিনে রসিকতা ও রোমান্সের মিশ্রণ তৈরি করেন। এই রোমান্টিক কমেডি রিডলির ক্যারিয়ারে নতুন দিক যোগ করে, যা তার বহুমুখিতা এবং বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে পারদর্শিতা প্রদর্শন করে।
ডেইজি রিডলি এখনো স্টার ওয়ার্সের পরবর্তী প্রকল্পের অপেক্ষায় থাকলেও, স্বাধীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পী স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। তার সাম্প্রতিক কাজগুলো দেখায় যে, বড় স্টুডিওর সঙ্গে কাজের পাশাপাশি স্বতন্ত্র গল্প বলার ক্ষমতা তার মধ্যে সমানভাবে বিকশিত। ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের প্রকল্পে হাত দেবেন, তা যদিও অনিশ্চিত, তবে তার কাজের গুণমান এবং দর্শকের প্রত্যাশা উভয়ই উচ্চমাত্রায় রয়ে গেছে।
রিডলির এই নতুন চলচ্চিত্র ও রোমান্টিক কমেডি প্রকাশের পর, দর্শক ও সমালোচক উভয়ই তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছেন এবং আশা করছেন যে তিনি আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করবেন। তার ক্যারিয়ার এখনো বিকাশের পথে, এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি নতুন গল্পের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাকে হলিউডের অন্যতম বহুমুখী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।



