ওয়ারেন বাফেটের নাম বিনিয়োগের জগতে স্বর্ণের সমান, তবে তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মুখ্য প্রচারক হিসেবেও পরিচিত। তার অবসর আসন্ন হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, কে তার স্থলে এই ভূমিকা গ্রহণ করবে।
বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক পরামর্শ এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এই সভা কেবল আর্থিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি বিশাল ক্রয়মেলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে কোম্পানির অধীনে থাকা বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শিত হয়।
এই ক্রয়মেলাকে “বার্কশায়ার বাজার অব বার্গেনস” বলা হয় এবং এটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এক ধরনের উৎসবের মতো। এখানে বার্কশায়ার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য একত্রে সাজানো হয়, যা বাজারে নতুন প্রবণতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
সেই পণ্যের মধ্যে স্কুইশম্যালো নামের নরম প্লাশ খেলনা বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্কুইশম্যালো হল গোলাকার, নরম টেক্সচারযুক্ত খেলনা, যা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয়। বার্কশায়ার ২০২২ সালে অ্যালেগানি নামের একটি কোম্পানি অধিগ্রহণ করে, যার অধীনে জ্যাজওয়্যারস নামে স্কুইশম্যালো প্রস্তুতকারক রয়েছে। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্কুইশম্যালো বার্কশায়ারের পোর্টফোলিওতে যুক্ত হয়।
২০২৩ সালে স্কুইশম্যালো প্রথমবার বাজারে আসে, এবং একই সঙ্গে ওয়ারেন বাফেট ও চার্লি মাঙ্গারের জীবনধারা থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এই সংস্করণগুলো শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়, যা পণ্যের উচ্চ চাহিদা নির্দেশ করে।
অনলাইন বাজারে স্কুইশম্যালোর দাম ৪৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা সাধারণ খুচরা মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই মূল্য বৃদ্ধি পণ্যের সংগ্রহযোগ্যতা এবং সীমিত সংস্করণ হওয়ার কারণে ঘটেছে।
বার্কশায়ারের এজিএম-এ স্কুইশম্যালোর উপস্থিতি কোম্পানির পণ্য বৈচিত্র্যকরণ কৌশলকে তুলে ধরে। ঐতিহ্যগতভাবে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আর্থিক তথ্যই প্রধান, তবে এখন খেলনা ও ভোক্তা পণ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বাফেটের অবসর পরেও এই ধরনের প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা বজায় রাখবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। এজিএম-এ পণ্য প্রদর্শন শেয়ারহোল্ডারদের সরাসরি ক্রয় অভিজ্ঞতা দেয়, যা ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বাড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্কুইশম্যালোর মতো উচ্চ মূল্যের সংগ্রহযোগ্য পণ্যগুলো সীমিত সরবরাহের কারণে দ্রুত বিক্রি হয়, ফলে কোম্পানির নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা বিক্রয় পরিমাণে সীমাবদ্ধতা আনতে পারে।
ভবিষ্যতে বার্কশায়ার যদি এজিএম-এ আরও ভোক্তা পণ্য অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের সুযোগ হতে পারে। তবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সঠিক সমতা বজায় রাখতে হবে, যাতে উচ্চ মূল্যের কারণে বাজারের চাহিদা কমে না যায়।
সারসংক্ষেপে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের এজিএম এখন আর শুধুমাত্র আর্থিক পরামর্শের মঞ্চ নয়; এটি একটি বৃহৎ পণ্য প্রদর্শনী, যেখানে স্কুইশম্যালোর মতো নতুন পণ্য শেয়ারহোল্ডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাফেটের অবসর পরেও এই প্রচারমূলক মডেল চালিয়ে গেলে কোম্পানির ব্র্যান্ড শক্তি ও আয় উভয়ই বৃদ্ধি পেতে পারে।



