28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনেতান্যাহু ও ট্রাম্পের ফ্লোরিডা সাক্ষাৎ গাজা চুক্তি ও ইরান উত্তেজনা নিয়ে

নেতান্যাহু ও ট্রাম্পের ফ্লোরিডা সাক্ষাৎ গাজা চুক্তি ও ইরান উত্তেজনা নিয়ে

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতান্যাহু আগামী সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের মারা-আলাগো রিসর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই নেতা গাজা অঞ্চলের সাময়িক চুক্তির প্রথম ধাপ, ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং লেবানন ও সিরিয়ায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আক্রমণ নিয়ে আলোচনা করবেন।

নেতান্যাহু রবিবারই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন, তবে আলোচনার স্থান হোয়াইট হাউস নয়; ট্রাম্পের ছুটির সময়ে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। বৈঠকের সময়সূচি সোমবার নির্ধারিত, যেখানে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

এটি নেতান্যাহুর দশ মাসে পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্র সফর, এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ীতা প্রকাশ করে। ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথমবার হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন, এরপর এপ্রিল, জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাসে ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরগুলো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বন্ধনের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি ইসরায়েলকে সমর্থনকারী বেশ কয়েকটি নীতি গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তর, সিরিয়ার দখলকৃত গোলান হাইটসকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব স্বীকার এবং প্যালেস্টিনীয় শরণার্থীদের জন্য ইউএন সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএর তহবিল কেটে দেওয়া এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে।

বর্তমানে ট্রাম্পের সরকার প্যালেস্টিনীয় অঞ্চলে ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। গাজা অঞ্চলে সাময়িক চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে, যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত লঙ্ঘন রিপোর্ট করা হচ্ছে। গাজা তীরের ওপর চলমান হামলা, পশ্চিম তীরের দখলকৃত এলাকায় আক্রমণ এবং লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক কার্যক্রম এই চুক্তির স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ইসরায়েলি সরকার গাজা চুক্তির পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার ফলে ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি কঠোরতর হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে গাজা তীরের স্থিতিশীলতা ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাসই প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্যালেস্টিনীয় জনগণের জন্য রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক লঙ্ঘন ও গাজা তীরের মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা বাড়ছে।

ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে গাজা চুক্তি ও ইরানের হুমকি মোকাবেলায় শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অপরিহার্য। নেতান্যাহু ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে নিরাপত্তা গ্যারান্টি, সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চান। তিনি ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সর্বোত্তম বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে।

বৈঠকের ফলাফল গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ রোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব ফেলবে। যদি উভয় পক্ষ সমঝোতা করে চুক্তির প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে গাজা তীরের মানবিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক সংঘর্ষের ঝুঁকি পুনরায় উঁচুতে উঠতে পারে।

এই বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা কৌশলের মধ্যে সমন্বয়কে পুনরায় যাচাই করার সুযোগ দেবে। ট্রাম্পের প্রশাসন গাজা চুক্তি ও ইরান নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে, আর ইসরায়েল তার নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সমর্থন চায়।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপগুলোতে গাজা তীরের চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের পথ খোঁজা এবং প্যালেস্টিনীয় শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই সরাসরি সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments