19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসোমালিয়া প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে সিলোনের স্বীকৃতিকে ‘নগ্ন আক্রমণ’ বলে নিন্দা

সোমালিয়া প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে সিলোনের স্বীকৃতিকে ‘নগ্ন আক্রমণ’ বলে নিন্দা

সোমালিয়ার রাষ্ট্রপতি হাসান শেইখ মোহামুদ রবিবার জরুরি যৌথ সংসদ সেশনে ইসরায়েল কর্তৃক সিলোনের স্বীকৃতিকে ‘নগ্ন আক্রমণ’ বলে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুকে দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ বলে অভিহিত করেন।

প্রেসিডেন্ট মোহামুদ সমগ্র জনগণকে শান্ত থাকতে এবং দেশের ঐক্য ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সিলোনের স্বীকৃতি দেশের ঐতিহাসিক একতাবদ্ধতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং তা ত্বরিত মোকাবেলা করা দরকার।

সোমালিয়ার সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেন, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে ‘অবৈধ’ ও ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়। যদিও সিলোন ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্রতা ঘোষণা করলেও, সেই সময় থেকে সোমালিয়া তার স্বায়ত্তশাসন স্বীকার করেনি, তাই এই সিদ্ধান্ত মূলত প্রতীকী রূপে গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে দেশের দণ্ডবিধি ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শাস্তি পাবে। এই শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা স্পষ্ট করে, সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি তুলে ধরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষত, সরকারকে জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের পাশাপাশি আইনি ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেটানিয়াহু শুক্রবার ঘোষণা করেন, ইসরায়েল সিলোনের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তিনি এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত আব্রাহাম চুক্তির আত্মার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন, যা ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।

ইসরায়েল এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্ব-স্বীকৃত সিলোনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। সিলোন প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রধান দেশ বা সংস্থা তা স্বীকার করেনি।

প্রেসিডেন্ট মোহামুদ নেটানিয়াহুর এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে সোমালিয়ার ভূখণ্ডে আনার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সোমালিয়ার ভূমি কোনো সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রতিরোধ করা হবে।

মোহামুদ এই স্বীকৃতিকে দেশের ঐক্যের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে, জনগণকে গোষ্ঠীভিত্তিক ও আঞ্চলিক বিরোধ ত্যাগ করে একত্রে কাজ করতে আহ্বান জানান। তিনি জাতীয় ঐক্য রক্ষার জন্য সমষ্টিগত বুদ্ধি ও শক্তি একত্রিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এই ঘটনার ফলে সোমালিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। পাশাপাশি, আফ্রিকান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তুলে ধরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সোমালিয়া তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments