শারিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে, গৃহ উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অবসর) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তিনি আইন ও শৃঙ্খলা মূল কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
বৈঠকটি সেক্রেটারিয়েটের আইন ও শৃঙ্খলা মূল কমিটির অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের সামগ্রিক শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট পর্যায়‑২ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় আলোচনা করা হয়।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ, সীমান্ত রক্ষী বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রাব) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে মামলার পেছনের সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
তদন্তকারী দলগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং অপরাধী ও সহায়কদের সনাক্ত করা যায়।
এ পর্যন্ত মোট এগারোজন গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তের মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী ও পিতামাতা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছয়জন সেকশন ১৬৪ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে, আর চারজন সাক্ষী একই ধারা অনুসারে বিবৃতি দিয়েছেন।
প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে, তদন্তকারী দল দুইটি বিদেশি পিস্তল, ৫২টি গুলির রাউন্ড, ম্যাগাজিন, একটি ছুরি, এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ নকল নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন আইটেম বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়া শেল কেস, গুলির অবশিষ্টাংশ, ভিডিও রেকর্ডিং, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।
অধিকন্তু, প্রায় পঞ্চান্নটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেকও জব্দ করা হয়েছে, যা মামলার আর্থিক দিকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্য, সাক্ষীর বিবৃতি, এবং জব্দকৃত প্রমাণের সমন্বয়ে তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উপদেষ্টা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি দ্রুত সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জনসাধারণকে ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুতগতির ট্রায়াল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা শেষ কথা বলেন, সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে কোনো ধরনের কাজ না করা যা অপরাধী গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার হতে পারে। তিনি জনগণকে সতর্ক করেন, যেন কোনো অবৈধ সহায়তা বা সহানুভূতি না দেখানো হয়, যা ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এইভাবে, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বর্তমান অবস্থা, গ্রেফতার, জব্দকৃত প্রমাণ এবং নিকট ভবিষ্যতে চার্জ শিট দাখিলের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করা হয়েছে।



