ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত মোট ২,৭৮০টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তবে ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র ৩১টি পত্রই দাখিল করা হয়েছে। সংগ্রহের সময়সূচি রবিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত আপডেট করা হয়েছে, এবং পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার।
ইসির সমন্বয় কমিটি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া সম্ভব, এবং এই সময়সীমা শেষ হবে সোমবারের শেষ কর্মদিবসে। প্রার্থীদেরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পত্র জমা দিতে হবে, অন্যথায় পত্রটি অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে।
প্রদেশভিত্তিক সংগ্রহের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকার অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ ৫০১টি পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, এরপর কুমিল্লা থেকে ৪০৫টি, ময়মনসিংহ থেকে ৩৩৯টি, রংপুর থেকে ২৮৩টি, খুলনা থেকে ৩০২টি, রাজশাহী থেকে ২৬৯টি, সিলেট থেকে ১২৭টি, ফরিদপুর থেকে ১৪৫টি এবং বরিশাল থেকে ১৬১টি পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সংখ্যা থেকে দেখা যায় যে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে মনোনয়নপত্রের সংগ্রহের গতি বেশি।
দাখিলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ফরিদপুরে সর্বোচ্চ আটটি পত্র দাখিল হয়েছে, ময়মনসিংহ ও বরিশাল অঞ্চলে প্রত্যেকটি সাতটি করে পত্র দাখিল হয়েছে। রংপুরে তিনটি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুটো করে, এবং খুলনা ও সিলেটে একেকটি পত্র দাখিল হয়েছে। তবে রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলে কোনো পত্রই দাখিল করা হয়নি।
ইসির সমন্বয় কমিটি উল্লেখ করেছে যে সাধারণত মনোনয়নপত্রের অধিকাংশ দাখিল শেষ দিনে হয়। এই নির্বাচনেও প্রার্থীরা শেষ দিনকে প্রধান দাখিলের সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যা পূর্বের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মনোনয়নপত্র জমার সময় কিছু নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে। পত্র দাখিলের সময় প্রার্থী, তার প্রস্তাবক এবং সমর্থকসহ পাঁচজনের বেশি উপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ, এবং কোনো ধরনের মিছিল, শোডাউন বা অশান্তি ঘটলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই শর্তগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্ধারিত।
মনোনয়নপত্রের শেষ প্রত্যাহার সময়সীমা ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত, যার পর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবে, এবং ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাবে। ভোটের দিন নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত, একই সঙ্গে গণভোটের ব্যবস্থা থাকবে।
এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে মনোনয়নপত্রের সংগ্রহের পরিমাণ যদিও বিশাল, তবে দাখিলের হার এখনও কম। শেষ দিন পর্যন্ত দাখিলের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গতিপথকে প্রভাবিত করবে। প্রার্থীরা এখনো সময়সীমার মধ্যে পত্র দাখিল করে তাদের প্রার্থীতা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরান্বিত হতে পারেন, আর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা হবে পরবর্তী ধাপের মূল শর্ত।



