বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার‑১ (চকরিয়া‑পেকুয়া) আসনের পার্টি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার বিকেলে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্র জমা দেন।
প্রার্থীর দপ্তরে পৌঁছানোর আগে দুপুরে ঢাকা থেকে বিমান করে কক্সবাজারে ফিরে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ দেলোয়ারের অফিসে উপস্থিত হন। দেলোয়ারের কর্মীদের সহায়তায় তিনি কাগজপত্র সঠিকভাবে সম্পন্ন করে রেজিস্টার করেন।
দলীয় সহকারী ছফওয়ানুল করিমের মতে, প্রার্থী এই আসনে “ধানের শীষের” প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, অর্থাৎ তিনি পার্টির শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি পেকুয়া উপজেলার সিকদারপাড়া গ্রামে অবস্থিত নিজের বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক এবং অন্যান্য পার্টি নেতা‑কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জমা দেওয়ার আগে বা পরে প্রার্থী কোনো মন্তব্য করেননি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও উত্তর দেননি।
কক্সবাজার‑১ আসনটি চকরিয়া ও পেকুয়া দুইটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৩৩,৯৫। এদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ৩,৮৬,৪৯৬ এবং পেকুয়া উপজেলায় ১,৪৬,৫৯৯ ভোটার নিবন্ধিত। এই সংখ্যাগুলো দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা গঠন করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ পূর্বে তিনবার এবং তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী বলে গণ্য হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ায় অন্যান্য দলও দ্রুত তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কক্সবাজার‑১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতি পার্টির ভোটার ভিত্তি জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রতিপক্ষের দলগুলিও এই অঞ্চলের ভোটার গঠন ও পূর্বের নির্বাচনী ফলাফল বিবেচনা করে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করবে বলে অনুমান করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচনী কমিশনের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়া প্রত্যাশিত। কক্সবাজারের ভোটাররা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রার্থীদের কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তার দলীয় সহকর্মীরা এখন থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালু করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে মনোনিবেশ করবেন। এই প্রচারাভিযান কিভাবে গতি পাবে এবং ভোটারদের সমর্থন কতটা বজায় থাকবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



