19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশিশু অধিকার ২০২৫ রিপোর্টে ৬২% নেতিবাচক খবর রেপ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত

শিশু অধিকার ২০২৫ রিপোর্টে ৬২% নেতিবাচক খবর রেপ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত

ঢাকায় সিআইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে আজ প্রকাশিত “স্টেট অফ চাইল্ড রাইটস ২০২৫” নামে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১,৮৬৭টি শিশু‑সংক্রান্ত নেতিবাচক সংবাদে ৬২.৬৬ শতাংশ রেপ এবং হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যগুলো দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের বিশ্লেষণ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রোগ্রামটি সচেতন সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সচেতন সংগঠন সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ম্যানুশের জনো (MJF) এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহিন আনাম সেশনটি পরিচালনা করেন, আর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ডিরেক্টর জেনারেল আরজু আরা বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণার উপস্থাপনায় স্ক্যান বাংলাদেশ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী পত্রিকায় ১,৪৮৫টি প্রধান শিশু‑সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৩১.১৯ শতাংশ, দুর্ঘটনা ও দুঃখজনক ঘটনা—যেমন সড়ক দুর্ঘটনা, ডুবে যাওয়া, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া এবং খেলাধুলার সময় মৃত্যু—সংক্রান্ত।

শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সম্পর্কিত খবর ১৫.৬৩ শতাংশ গঠন করে, যা রেপ, শারীরিক নির্যাতন এবং অন্যান্য হিংসাত্মক কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। মানব পাচার ও যৌন শোষণ সংক্রান্ত রিপোর্ট ৮.৭৫ শতাংশের কাছাকাছি, যা শিশুর বাণিজ্যিক শোষণের উদ্বেগকে তুলে ধরে।

শিশু স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা ৯.৭০ শতাংশ, আর শিক্ষা ক্ষেত্রের ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট ৬.৯৪ শতাংশ। এই সংখ্যা গুলো দেখায় যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

মোট ১,৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদে ১৫.১৬ শতাংশে দুর্ঘটনা-জনিত শিশুমৃত্যু অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।

ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগে শিশু অপরাধ ও দুর্ঘটনার সংখ্যা সর্বোচ্চ, যেখানে ২৮৪টি শিশুর আঘাত, ২৯৮টি শিশুর মৃত্যু এবং মোট ২,৩৭৬টি শিশুকে ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেষ হয়, যাতে আসন্ন নির্বাচনের সময় শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। গবেষকরা সকল রাজনৈতিক শক্তিকে শিশুদের সুরক্ষার জন্য সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

এই গবেষণার ফলাফল দেশের শিশু সুরক্ষা নীতির পুনঃমূল্যায়ন এবং কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বিশেষ করে রেপ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের উচ্চ অনুপাত সমাজের গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

শিশু অধিকার সংস্থাগুলো এই তথ্যের ভিত্তিতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে পরিবার, বিদ্যালয় এবং সম্প্রদায়ের সবাই শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোকে জরুরি তদন্ত ও নীতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুর ওপর হিংসা ও অপরাধের হার কমে।

শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এই ধরনের তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং তার ফলাফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া অপরিহার্য, বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments