20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাভারত থেকে সুতা আমদানি ১৩৭% বৃদ্ধি, দেশীয় সুতাকলে সংকট

ভারত থেকে সুতা আমদানি ১৩৭% বৃদ্ধি, দেশীয় সুতাকলে সংকট

বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গুলশান ক্লাবে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি ১৩৭ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবণতা দেশের স্পিনিং মিলগুলোকে তীব্র আর্থিক সংকটে ফেলেছে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করে বাংলাদেশে রপ্তানি করছে। এই দামের পার্থক্য স্থানীয় উৎপাদনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, ফলে দেশীয় সুতার চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।

ডাম্পিংয়ের ফলে প্রায় পঞ্চাশটি সুতাকল বন্ধ হয়ে গেছে। এই মিলগুলোতে মোট ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল, যা পুনরায় চালু করা এখন কঠিন বলে শওকত আজিজ উল্লেখ করেন।

মিলগুলো বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি, দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। মজুদ সুতার প্রকৃত মূল্য প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা অনুমান করা হচ্ছে।

শওকত আজিজের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে সুতা সরবরাহের জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অতীতে ভারত বিনা কারণেই তুলা ও সুতা রপ্তানি বন্ধ করেছে, যা দেশের রপ্তানি নীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

মতবিনিময় সভায় বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এম. মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খোকন এবং সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দারসহ কয়েকজন শিল্প নেতার উপস্থিতি ছিল। সকলেই বর্তমান সংকটের গভীরতা ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হয়েছেন।

শওকত আজিজ স্পষ্ট করে বলেন, ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করা তাদের লক্ষ্য নয়; বরং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে নির্ভরশীলতা হ্রাস করা প্রয়োজন। যদি এই দিকটি না করা হয়, তবে প্রথমে সংযোগ শিল্প এবং পরে তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ক্ষতি হবে।

বর্তমান সরকারকে শিল্পের পুনর্জন্মে ব্যর্থতা সমালোচনা করা হয়। ২৫০টিরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা এবং পঞ্চাশেরও বেশি বস্ত্রকল বন্ধ হয়েছে; অর্ধেকের বেশি কারখানা আংশিক বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শওকত আজিজ সুতা রপ্তানির জন্য দশ শতাংশ নগদ সহায়তা চেয়েছেন। এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) পরিমাণ বাড়ানো, সুদের হার কমানো এবং ব্যাংক ঋণের শর্ত সহজ করা দরকার বলে তিনি জোর দেন।

ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড প্রদানও শিল্পের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব চাহিদা পূরণ হলে সুতার সরাসরি ও পরোক্ষ রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, যা বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সহায়তা করবে।

সংক্ষেপে, ভারতীয় ডাম্পিং ও উচ্চ নির্ভরশীলতা দেশের সুতাকলকে সংকটে ফেলেছে, আর সরকারী নীতি ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া পুনরুদ্ধার কঠিন। শিল্প নেতারা দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে রপ্তানি ভিত্তিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রক্ষা করতে চেয়েছেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments