রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী আরিফ বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় আজ সকাল ১০:৩০ টায় একটি জাতীয় দৈনিকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারী দলের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাহাম্মুদ হাসান কাজল এবং শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সম্মেলনে মুচিদহ, শায়েস্তাপুর ও গাবলা এলাকায় নির্যাতনের শিকারদের প্রতিনিধিত্বকারী ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ভুক্তভোগীর পরিবার, স্থানীয় নেতারা এবং মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন, যারা ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
মাহাম্মুদ হাসান কাজল এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, আরিফ খান (বয়স ৪৫) ও তার সহচররা মুচিদহ, শায়েস্তাপুর ও গাবলা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে হিংসা ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তারা উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা গৃহ, ফসলি জমি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের কাজ করে চলেছে।
অভিযোগের মধ্যে বলা হয়েছে, আরিফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় পনের থেকে বিশের মধ্যে, যার মধ্যে স্থানীয় হাবিব সদস্য, লিটু খান, সেলিম শিকদার এবং রিপন শেখ অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যক্তিগণকে ভুক্তভোগীর মতে সশস্ত্রভাবে হুমকি প্রদান এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, নির্যাতনের শিকার কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুও অন্তর্ভুক্ত। শিশুরা শারীরিক আঘাত এবং মানসিক ট্রমার শিকার হয়ে গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। এই বিষয়টি স্থানীয় সমাজে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নির্যাতনের পাশাপাশি আরিফ বাহিনীর বিরুদ্ধে গৃহ, ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, তাদের সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার পরেও গোষ্ঠীটি কোনো আইনি বাধা ছাড়াই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এবং পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গোষ্ঠীর অবৈধ কার্যকলাপের বিস্তারিত বর্ণনা এবং প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মনজুর মোরশেদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ বিভাগের দায়িত্ব এবং এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
অন্যদিকে আরিফ খান নিজে অভিযোগ অস্বীকার করে, বলেন তার ভাই আমজাদ খান হত্যার পেছনে মাহাম্মুদ হাসান কাজল জড়িত। তিনি দাবি করেন, কাজল নিজের বিরুদ্ধে গৃহীত হত্যার মামলায় থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করছেন।
বক্তব্যে আরিফ খান বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নির্দোষতা প্রমাণ করতে চান। তিনি আদালতে তার বিরুদ্ধায় দায়ের করা মামলাগুলোর ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্তের অধীনে রেখেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় গ্যাংয়ের সদস্যদের সনাক্তকরণ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং গৃহহানি ও লুটপাটের রেকর্ড তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালতে প্রাথমিক শোনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, রাজবাড়ীর বসন্তপুর ইউনিয়নে আরিফ বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



