বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানকে ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভোট দিতে সক্ষম করা হয়েছে। আজ বিকেল প্রায় ৩:৪৫টায় নির্বাচন কমিশনের পাবলিক রিলেশনস অফিসার রুহুল আমিন মাল্লিক সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, তিনি ঢাকা‑নর্থ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড‑৯, অর্থাৎ গুলশান, বানানী ও বারিধারার অন্তর্ভুক্ত ঢাকা‑১৭ নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য বিবৃতি অনুযায়ী, তরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণভাবে কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আপত্তিকর বিষয় পাওয়া যায়নি এবং তালিকায় তার নাম যুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএনসিসি ওয়ার্ড‑৯ গুলশান, বানানী ও বারিধারার মতো শহরের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এলাকা গুলোর মধ্যে পড়ে। এই এলাকাগুলো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ এবং মিডিয়া মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। তরিকের নাম এই অঞ্চলের ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া, তার রাজনৈতিক উপস্থিতি ও প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।
ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া তরিকের জন্য কেবল ভোটাধিকার নিশ্চিত করে না, বরং বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে পার্টি তার উপস্থিতি ও সমর্থন গড়ে তোলার জন্য এই এলাকায় বিশেষ প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করেছে।
তরিকের মন্তব্যে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতি যেন আবার অন্ধকারের পথে না যায়, এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে; বিভাজন ও অনৈক্য সৃষ্টি করলে চক্রান্তকারীরা আবার সুযোগ পাবে। এই বক্তব্যের মূল সুরে তিনি দেশের সংহতি ও নিরাপত্তার প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকেন।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম, দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, বিএনপির নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণা পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করেছে।
সরকারি পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আপত্তিকর বিষয় উত্থাপিত হয়নি, তবে রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সকল রাজনৈতিক দলই প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে নজর রাখছে।
তরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, বিশেষ করে গুলশান‑বানানী‑বারিধারার মতো উচ্চপ্রোফাইল এলাকায়, ভোটার গোষ্ঠীর মনোভাব ও ভোটের প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই অঞ্চলের ভোটাররা সাধারণত উচ্চ শিক্ষিত ও মিডিয়া সচেতন, ফলে তাদের ভোটের পছন্দ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হয়ে দাঁড়াবে।
বিএনপি ইতিমধ্যে এই নিবন্ধনকে পার্টির সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তরিকের উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ, পার্টির তরুণ ও পুরোনো কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও এই ঘটনার প্রতি দৃষ্টিপাত করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে নজর রাখবে বলে জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম না থাকলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কোনো পরিবর্তন বা আপডেট হলে তা দ্রুত প্রকাশ করবে, যাতে সকল প্রার্থী ও ভোটারই সমান তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নিতে পারে। তরিকের ভোটার নিবন্ধন, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করেছে।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে, বিশেষ করে ঢাকা‑১৭ এলাকার ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালাবে। তরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিবিধি সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখে।



