ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া ও পূর্ব নুসা তেঙ্গারা দুইটি ভিন্ন স্থানে নৌকাডুবি ঘটেছে, যার ফলে মোট ২১ জনের অবস্থান অজানা। প্রথম ঘটনাটি পূর্ব নুসা তেঙ্গারার কোমোডো জাতীয় উদ্যানের পাদার দ্বীপের নিকটবর্তী জলে ঘটেছে, যেখানে চারজন স্প্যানিশ পর্যটকসহ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ। একই সপ্তাহে পাপুয়া প্রদেশের ইয়াপেন দ্বীপপুঞ্জে তীব্র বাতাস ও উচ্চ ঢেউয়ের কারণে ২১ জন যাত্রী বহনকারী একটি স্পিডবোট ডুবে যায়, যার মধ্যে একজন মৃত এবং ১৭ জন এখনও অনুসন্ধানে রয়েছে। উভয় ঘটনার পরপরই ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার (SAR) দল রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারার কোমোডো জাতীয় উদ্যানের পাদার দ্বীপের কাছাকাছি সন্ধ্যাবেলায় একটি পর্যটক নৌকা ডুবে যায়। নৌকায় ছিল চারজন স্প্যানিশ নাগরিক এবং কিছু স্থানীয় পর্যটক, যাদের মধ্যে কেউ কেউ তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নৌকাটি হঠাৎ করে ঢেউয়ের আঘাতে অস্থিতিশীল হয়ে ডুবে যায় এবং তৎকালীন আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুসন্ধান কাজকে কঠিন করে তুলেছে।
পাপুয়া প্রদেশের ইয়াপেন দ্বীপপুঞ্জে, রিজেন্সি নামের জায়গায় সেরুই সিটি থেকে ওয়াইন্ডু গন্তব্যে যাওয়ার পথে একটি স্পিডবোট তীব্র বাতাস ও উচ্চ ঢেউয়ের কারণে ডুবে যায়। নৌকায় মোট ২১ জন যাত্রী ছিল; ডুবে যাওয়ার পর তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাকি ১৭ জনের অবস্থান এখনও অজানা, এবং তাদের সন্ধানে সমুদ্র তলায় ডাইভার ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারার নৌকাডুবির ক্ষেত্রে, ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর দ্রুতগামী রেসকিউ জাহাজ এবং হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়েছে, তবে এখনও কোনো বেঁচে থাকা যাত্রী পাওয়া যায়নি। রেসকিউ টিমের মতে, ঢেউয়ের উচ্চতা ও রাতের অন্ধকার পরিস্থিতি অনুসন্ধানকে জটিল করে তুলেছে, তাই তারা পরের দিনও সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে।
পাপুয়ার স্পিডবোট ডুবে যাওয়ার পর, ইন্দোনেশিয়ার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সমুদ্র তলায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ডাইভার দল এবং রিমোট-অপারেটেড ভেহিকল (ROV) ব্যবহার করে নৌকাটির অবশিষ্টাংশ ও যাত্রীদের সম্ভাব্য অবস্থান নির্ণয় করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যাত্রীর পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পরিবারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শোক প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্প্যানিশ পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ায় স্পেনের দূতাবাস ইন্দোনেশিয়ার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং উদ্ধার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চাচ্ছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের আন্তর্জাতিক ঘটনার ক্ষেত্রে দু’দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দেয় এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্প্যানিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আঞ্চলিকভাবে, মালয় উপসাগর ও প্যাসিফিকের বিশাল জলের ওপর পর্যাপ্ত রেসকিউ অবকাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুইটি দুর্ঘটনা দেশের নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ত্রুটিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমাধান খোঁজা জরুরি।
একজন সমুদ্র নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “ইন্দোনেশিয়ার বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জের কারণে নৌকাডুবি ঘটলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ করা কঠিন, তাই পূর্ব পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।” তিনি আরও যোগ করেন যে, স্প্যানিশ পর্যটকদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম ভাগাভাগির দরকারি দিককে উজ্জ্বল করে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, ইন্দোনেশিয়া রেসকিউ হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে চায়। সরকার ইতিমধ্যে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ সেশন পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে সমুদ্র দুর্যোগে দ্রুত ও কার্যকরী সাড়া দিতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ইন্দোনেশিয়ার দুটি নৌকাডুবি মোট ২১ জনের নিখোঁজের দিকে নিয়ে গেছে, যার মধ্যে স্পেনের নাগরিকও রয়েছে। রেসকিউ টিমের কাজ অব্যাহত থাকায় পরিবার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে। তবে সমুদ্র নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



