ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী রবিবার জাত্রাবাড়িতে বিনামূল্যের চক্ষু সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি ধর্মভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো’ রূপক দিয়ে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানটি নবীউল্লাহ নবীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং স্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চোখের পরীক্ষা, ক্যাটারাক্ট অপারেশন, লেন্স স্থাপন, চশমা ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়। উপস্থিত রোগীরা সেবা পেয়ে তৎক্ষণাৎ উপকার অনুভব করেন।
চক্ষু সেবার পাশাপাশি নবীউল্লাহ নবী ধর্মীয় গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে সমালোচনা করেন, বলেন তারা নতুন‑নতুন বিষয় তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী ধর্মের নাম ব্যবহার করে ভোটের লোভে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে চায়, যা ইসলাম ও গণতন্ত্রের নীতির বিরোধী।
নবীউল্লাহ নবী আরও জানান, দেশের লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিএনপিকে সরকারে ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘পতিত স্বৈরাচার’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তাদেরকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, স্বৈরাচারী শক্তিগুলি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, জনগণকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অস্থিতিশীলতা শেষ করতে এবং শান্তি বজায় রাখতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় অপরিহার্য।
নবীউল্লাহ নবী অতীত সরকারের অবহেলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ঢাকা-৫ আসনটি বিশেষ করে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বহু দশক পিছিয়ে রয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জরাজীর্ণ, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই এলাকাকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তরিত করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
নবীউল্লাহ নবী সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান, স্বৈরাচারী গোষ্ঠী এখনও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে এবং ভোটের ফলাফল নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে পারবে না।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিতদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়, যেখানে তিনি ভোটের গুরুত্ব ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আহ্বান পুনর্বার জোর দেন।
এই মন্তব্যের পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও প্রকাশিত হয়নি।



