27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবগুড়ার কাহালুতে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি বৃদ্ধি পায়

বগুড়ার কাহালুতে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি বৃদ্ধি পায়

শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায় গত এক সপ্তাহে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি মিটার নিখোঁজ হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের রবি শস্যের সেচে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

মিটার চুরির ফলে রবি শস্যের বীজ বপন ও সেচের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ না হওয়ায় কৃষক ও নলকূপ মালিকরা উদ্বেগে আছেন, কারণ গরমের আগমনের আগে ফসলের ফলন হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবাদী কৃষক ও নলকূপ মালিকরা কাহালু সদর ইউনিয়নের জয়তুল গ্রামসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও কাহালু থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে মিটার চুরির ধারাবাহিকতা ও এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতির উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চোর চক্রটি রাতের অন্ধকারে নলকূপের কাছাকাছি মিটার তুলে নেয় এবং নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে। পরে মিটারের দেয়ালে মোবাইলের বিকাশ নম্বর যুক্ত করে বড় অংকের চাঁদা আদায় করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একাধিক গোষ্ঠী যুক্ত থাকে।

মিটারের স্থাপন স্থান সাধারণত নলকূপ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট দূরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে থাকে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও চোরদের জন্য বাধা নয়। নলকূপে পাহারা বসালেও মিটার চুরি রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চোর চক্রের সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা বিকাশ নম্বরে টাকা প্রদান করলে চুরি করা মিটার পুনরায় ফেরত দেওয়া হয়। তবে এই পদ্ধতি মিটারের পুনরাবৃত্তি চুরি ঘটাতে সহায়তা করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক চাপ বাড়ায়।

মিটার চুরি বন্ধের জন্য নলকূপ মালিকরা মিটারকে সরাসরি নলকূপের ঘরে স্থাপন করার দাবি তুলেছেন, যাতে চোরদের জন্য তা চুরি করা কঠিন হয়। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে করা লিখিত অভিযোগের কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

একজন নলকূপ মালিকের মতে, চোর চক্রের হুমকির মুখে নিয়মিত চাঁদা পরিশোধের পরও মিটার পুনরায় চুরি করা হয়। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সক্রিয় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

কিছু ক্ষেত্রে চোরদের গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়লেও, জেলহাজার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার চুরি কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এই পুনরাবৃত্তি অপরাধের ফলে নলকূপ মালিকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাহালু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শাহাদত হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, চোর চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের পরেও তাদের পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হওয়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি নলকূপ মালিক ও কৃষকদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করেছে।

অধিক তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মিটার চুরির মূল কারণ ও গোষ্ঠীর কাঠামো উন্মোচন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে।

বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায় বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ধারাবাহিকতা এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃষি ক্ষতি স্থানীয় জনগণের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকরী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না হলে রবি শস্যের উৎপাদন ও আয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments