চট্টগ্রামের নতুন সেতু চৌরাস্তা আজ বিকাল প্রায় দুইটায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও কর্মীরা রাস্তায় বাধা দিয়ে হাদি নামের প্রাক্তন মুখপাত্রের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি জানিয়েছেন।
বাকালিয়া থানা অধীনে অবস্থিত নতুন সেতু এলাকা শহরের অন্যতম ব্যস্ত চৌরাস্তা, যেখানে গাড়ি চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছিল।
বাকালিয়া থানা অফিসার-ইন-চার্জ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, প্রতিবাদকারীরা পূর্বে জানানো পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তায় অবস্থান নেয়ার ফলে যানবাহনের গতি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সোলাইমান আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ এখনো প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের কষ্ট কমাতে অবরোধ ত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন।
ইউপি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম শহর ইউনিটের যৌথ সদস্য সচিব কোহিনূর আখতার বলেন, হাদি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গুলি করে নিহত হয়েছেন, তবে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আখতার বলেন, “জনসাধারণের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তবু দায়ী অপরাধীদের ধরা পড়েনি; তাই আমরা রাস্তায় এসে ন্যায়বিচার দাবি করছি।”
নতুন সেতু চৌরাস্তা শহরের প্রধান পরিবহন কেন্দ্র, যা শাহ আমানত সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবনকে সংযুক্ত করে; এখানে বহু পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার ও থামা রয়েছে।
এই এলাকায় গাড়ি, বাস ও ট্রাকের প্রবাহ রোজকারই বিশাল, ফলে অবরোধের ফলে সারা শহরে ট্রাফিক জ্যাম ও যাত্রীদের অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকালই ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা নিউ মার্কেট চৌরাস্তায় একই রকম অবরোধ চালিয়ে হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করে থাকে।
একই সময়ে, বিএনপি নেতা তরিক রহমান তার পিতার কবরস্থানে ১৯ বছর পর প্রার্থনা করেন, যা রাজনৈতিক পর্যায়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ করেছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হল জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ, পুলিশ অবরোধের সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি হাদির হত্যার তদন্তে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, হাদির ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রতিবাদমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অবশেষে, নতুন সেতু চৌরাস্তার অবরোধের সমাপ্তি ও হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শহরের ট্রাফিক ও জনমত উভয়ই অস্থির থাকবে।



