19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামেলবোর্নের টেস্ট মাঠে দুই দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়, ইংল্যান্ড জয়লাভ

মেলবোর্নের টেস্ট মাঠে দুই দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়, ইংল্যান্ড জয়লাভ

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টে, ইংল্যান্ড দল দুই দিনের খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে। এই ম্যাচটি ১৮৯৬ সাল থেকে প্রথমবারের মতো দুইটি দুই-দিনের টেস্টের অংশ, যা অশেস সিরিজের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। ম্যাচের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন মেলবোর্নের হেড কিউরেটর ম্যাথিউ পেজ, যিনি শেষ পর্যন্ত “আশ্চর্যের অবস্থা” বলে প্রকাশ করেছেন।

ম্যাচের প্রস্তুতির সময় পেজ ও তার দল মাটিতে মাত্র ১০ মিমি ঘাস রেখে পিচ তৈরি করেন। ফলস্বরূপ ছয় সেশনে মোট ৩৬টি উইকেট নেমে আসে, যা টেস্টের স্বাভাবিক গতি থেকে বেশ দ্রুত। পিচের এই অবস্থা শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে দুই দিনের মধ্যে শেষ করতে বাধ্য করে।

ইংল্যান্ড দল দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় চার উইকেটের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত করে। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট জয়, যা ২০১১ সালের পর থেকে অর্জিত হয়েছে। একই সিরিজের প্রথম টেস্ট পার্সে দুই দিনের শেষের পরেই শেষ হয়েছিল, ফলে অশেসে দুইটি দুই-দিনের টেস্টের রেকর্ড তৈরি হয়।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA) এই অপ্রত্যাশিত শেষের ফলে প্রায় ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় £৪.৯৭ মিলিয়ন) আয় হারানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। এই আর্থিক ক্ষতি টিকেট বিক্রয়, টিভি অধিকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের উপর প্রভাব ফেলবে।

ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস ম্যাচের পর মন্তব্য করে, যদি এই পিচ অন্য কোনো দেশে তৈরি হতো তবে দর্শকরা “নরক সৃষ্টি” করতে পারত। তার এই কথা মাঠের প্রস্তুতি ও দর্শকদের প্রত্যাশা উভয়কেই তুলে ধরেছে।

ম্যাচের পর পেজ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেন। তিনি বলেন, “এমন কোনো টেস্টে আমি আগে অংশ নিইনি এবং আশা করি আবার এমন টেস্টে অংশ নিতে না হয়।” পেজ আরও যোগ করেন, “আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী ফলাফল পাইনি, তাই উন্নতির জন্য কী করা দরকার তা বিশ্লেষণ করব।” এই মন্তব্যগুলো পিচের গুণগত মান নিয়ে আলোচনার সূচনা করেছে।

ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার স্ট্যান্ড‑ইন ক্যাপ্টেন স্টিভ স্মিথ পিচকে “ফারী এবং সবুজ” বলে বর্ণনা করেন এবং ব্যাটসম্যানদের সতর্ক করেন যে তারা তাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। স্মিথের এই সতর্কতা পিচের দ্রুত ভেঙে যাওয়া এবং ব্যাটিংয়ের কঠিনতা পূর্বাভাস দিয়েছিল।

প্রথম দিনেই ২০টি উইকেট নেমে আসে, যা ১৯০৯ সালের পর থেকে অশেসের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ উইকেটের সংখ্যা। এই রেকর্ডটি পিচের অপ্রত্যাশিত গতি ও বোলারদের সুবিধা নির্দেশ করে। পেজ প্রথম দিনের পর “আশ্চর্যের অবস্থা” প্রকাশ করে এবং বলেন, “দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা একটি আকর্ষণীয় টেস্ট তৈরি করেছি, তবে সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ হয়নি।” ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

মেলবোর্নের পিচ পূর্বে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০১৭ সালের অশেস টেস্টে পিচটি বোলারদের জন্য যথেষ্ট সহায়তা না করে ড্র হয়ে গিয়েছিল, যা দর্শকদের জন্য বিরক্তিকর ছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আজকের পিচের সমস্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

অশেস সিরিজের পরবর্তী টেস্টের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে, এবং পিচের গুণগত মান উন্নত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশা বাড়ছে। পেজ এবং তার দল আগামী বছরের প্রস্তুতিতে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, আরও সুষম এবং দীর্ঘস্থায়ী পিচ তৈরির পরিকল্পনা করছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments