মস্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ২০২৫ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধার অংশ হিসেবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠনকে রাশিয়ার অটুট নীতি হিসেবে পুনরায় জোর দিয়েছেন। তিনি গাজা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে সমাধান খোঁজার রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
ল্যাভরভের মতে, ঐতিহাসিক অবিচার সংশোধন এবং এমন একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সৃষ্টিই প্রধান লক্ষ্য, যা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, “গাজা ও আশপাশের পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের একটি ন্যায্য সমাধানের প্রতি রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।” এই বক্তব্য রাশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, যেখানে দুই পক্ষের স্বার্থের সমতা রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করা লক্ষ্য।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ল্যাভরভ শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার ফলে ভূমি সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঐতিহাসিক অবিচারের প্রতিকার করা এবং এমন একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রাখবে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, রাশিয়া বর্তমান চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ল্যাভরভ আরও উল্লেখ করেন যে, মৌলিক সমস্যার সমাধান ছাড়া ফিলিস্তিনি ও ইহুদি জনগণের জন্য, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জাতিগুলোর জন্যও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কল্পনা করা কঠিন। তিনি বলেন, “এই মৌলিক সমস্যার সমাধান ছাড়া ফিলিস্তিনি ও ইহুদি জনগণের জন্য, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জাতির জন্যও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিতের কল্পনাই করা কঠিন।” এই বক্তব্য রাশিয়ার সমগ্র অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
রাশিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া উত্পন্ন করেছে। কিছু দেশ রাশিয়ার সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়ে ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক রাশিয়ার নীতিকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে, ল্যাভরভের মন্তব্য স্পষ্টভাবে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক লক্ষ্যকে প্রকাশ করে—ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে ন্যায্য ও টেকসই কাঠামো গঠন, যা উভয় পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সমন্বিত করে।
ভবিষ্যতে রাশিয়া কীভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করবে, তা নির্ভর করবে গাজা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রয়োগ এবং শান্তি চুক্তির পরবর্তী ধাপের অগ্রগতির উপর। ল্যাভরভের মন্তব্যের ভিত্তিতে, রাশিয়া সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রধান শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সমাধান করার দিকে মনোযোগ দেবে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের সর্বশেষ মন্তব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রাশিয়ার অটুট অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে ন্যায্য সমাধান অনুসন্ধানের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তিনি ঐতিহাসিক অবিচার সংশোধন, স্থায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মৌলিক সমস্যার সমাধানকে অপরিহার্য বলে জোর দিয়েছেন। এই নীতি রাশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির মূল দিককে প্রতিফলিত করে এবং ভবিষ্যতে অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



