জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর যৌথ সমন্বয়কারী তাজনুভা জাবিন আজ দুপুর ১২:৪৫টায় নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে পার্টি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন এবং আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রস্তাবিত প্রার্থীর নামের তালিকায় নাম লেখার শেষ সময়সীমার ঠিক আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ফলে তার নামের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাজনুভা পোস্টে লিখেছেন, “আমি আজ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। ভাঙা হৃদয় নিয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আমি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না।”
তিনি পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, দলটি রাজনৈতিক কৌশলকে আদর্শের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিশ্বাসঘাতকতার সংস্কৃতি গড়ে তুলছে। তাছাড়া, এনসিপি-র জামায়াত‑ই‑ইসলামির সঙ্গে জোট গঠনের পরিকল্পনাকে তিনি সমালোচনা করেন।
তাজনুভা তার প্রচারাভিযানের জন্য দানকারী সমর্থকদের প্রতি দায়িত্ববোধ প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি দেন যে, “আমি আপনার দানগুলো একে একে ফেরত দেব। এক পয়সা না বাদ দিয়ে সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” এই প্রতিশ্রুতি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে সরে যাওয়ার পরেও দানকারীদের আস্থা বজায় রাখার উদ্দেশ্য নির্দেশ করে।
পদত্যাগের পরেও তাজনুভা জানান, তিনি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য তার কণ্ঠস্বর ও কাজকে আরও শক্তিশালী করে চালিয়ে যাবেন। তিনি যোগ করেন, “আমার কণ্ঠ ও কাজ দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য আরও শক্তি পাবে এবং আরও তীব্রভাবে এগিয়ে যাবে।”
একই সময়ে, এনসিপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিস্থলে প্রার্থনা করেন। তরিকের এই কাজটি পার্টির অভ্যন্তরে ও বাহিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে পারিবারিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্ব পায়।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে রবিবার সকালে অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নজরুল ইসলাম এই তথ্যগুলো জানিয়ে দেন, যা তাজনুভা জাবিনের পদত্যাগের সময়সূচি ও পার্টির অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, তাজনুভা’র পদত্যাগের পর পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও জোটের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এনসিপি-র অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, তাজনুভা’র পদত্যাগের ফলে পার্টির নির্বাচনী কৌশলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে জোটের আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গৃহীত হতে পারে। পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাজনুভা’র সিদ্ধান্তকে স্বীকার করে, দলীয় নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তাজনুভা’র পদত্যাগ এনসিপি-র জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, যারা জামায়াত‑ই‑ইসলামির সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে, তারা এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে এনসিপি-র মধ্যে বিভাজনকে কাজে লাগাতে পারে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, তাজনুভা’র পদত্যাগের ফলে এনসিপি-র ভোটার বেসে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে এবং পার্টি নতুন কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। তাছাড়া, তাজনুভা’র পুনরায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাকে ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তাজনুভা জাবিনের এনসিপি ত্যাগ এবং নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে যাওয়া পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও জোটের পরিকল্পনার প্রতি তার অসন্তোষের প্রকাশ। তার পদক্ষেপের ফলে পার্টি ও দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি ও পুনর্গঠন প্রত্যাশিত।



