চাঁদপুরের আমিরাবাদে আজ প্রাতঃকাল ৬টা ৩০ মিনিটে পদ্মা নদীর ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি যাত্রী লঞ্চ এবং একটি কার্গো জাহাজের সংঘর্ষ ঘটেছে। ঢাকা থেকে মুলাদি পথে চলা এমভি মহারাজ‑৭ লঞ্চ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় নোঙর টেনে রেখেছিল; একই সময়ে নিকটস্থ কার্গো জাহাজও নোঙর থেকে বেরিয়ে লঞ্চের বাম পাশের দ্বিতীয় তলা ধ্বংস করে। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
লঞ্চের ব্যবস্থাপক মাহফুজুল হক মাসুম জানান, মহারাজ‑৭ গত রাত্রি ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রওনা হয় এবং কুয়াশার কারণে আমিরাবাদে থেমে ছিল। যখন কার্গো জাহাজ চলা শুরু করে, তখনই লঞ্চের দ্বিতীয় তলার রেলিং ও ফ্লোরের কিছু অংশ ভেঙে যায়। লঞ্চের অনুমানিক পৌঁছানোর সময় মুলাদিতে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের আশেপাশে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাফিক ইনস্পেক্টর আকতার হোসেনের মতে, লঞ্চের দ্বিতীয় তলার রেলিং ও মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; লঞ্চ মুলাদি টার্মিনালে পৌঁছালে সম্পূর্ণ ক্ষতির তালিকা জানানো হবে। একই সঙ্গে, কুয়াশা বাড়ার ফলে বিআইডব্লিউটিএ সমস্ত নৌযানের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে এবং নির্দেশ লঙ্ঘনকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ, রিভার পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহায়তায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবারই চাঁদপুরের হাইমচার এলাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যে দুটি যাত্রী লঞ্চের ধাক্কায় চারজনের মৃত্যু হয়। নারায়ণগঞ্জে আরেকটি দুর্ঘটনায় লঞ্চ সুন্দরবন‑১৬ একটি বাল্কহেডে আঘাত পেয়ে দুইজনের প্রাণ হারায়। চাঁদপুর রিভার পুলিশ অফিসার-ইন-চার্জ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু লঞ্চ কুয়াশার সময়েও চলাচল চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ নৌ নিরাপত্তা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যৌথ পরিচালক মোবারক হোসেন খান উল্লেখ করেন, লঞ্চের রুট পারমিটের মধ্যে তিনটি লঞ্চের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে, কারণ সেগুলো নিয়ম লঙ্ঘন এবং পূর্বের দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এছাড়া, ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য আটজন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা প্রমাণ সংগ্রহ ও দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করবে।
এই ঘটনাগুলো নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং কুয়াশা সময়ে কঠোর নিয়ম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা এবং রিভার পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে নৌযান চালানোই দুর্ঘটনা রোধের মূল চাবিকাঠি।



