শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক‑প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরের সব শিক্ষার্থী আজ থেকে সরকারী বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তকের সফটকপি অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সময়মতো বইয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা।
আজ রবিবারের অনুষ্ঠানটি শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উন্মোচন করেন। উভয় উপদেষ্টা সফটকপি আপলোডের উদ্বোধন করে শিক্ষাব্যবস্থার ডিজিটালায়নের নতুন দিক উন্মোচিত করেন।
উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণ আপলোড করা হয়। ওয়েবসাইটে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষার সংস্করণ, পাশাপাশি ইবতেদায়ি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষা, মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি বই পাওয়া যায়।
ডিজিটাল সংস্করণে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সরাসরি ব্রাউজ করতে পারবে, ডাউনলোড করে অফলাইনেও ব্যবহার করতে পারবে। এতে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা কমে যাবে এবং শিক্ষার সমতা বাড়বে।
একই সঙ্গে, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা শারীরিক কপি পাবে। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ বই পাবে, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণ কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, এই স্তরের অধিকাংশ বই শীঘ্রই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাবে।
বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই কয়েকটি মৌলিক বই পাবে। বাকি বিষয়ের বই কয়েক দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পুরো পাঠ্যক্রমে সুষ্ঠু প্রবেশ করতে পারে।
এ পর্যন্ত মোট ৭৮.৭২ শতাংশ বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে, আর ৫৮.৬৮ শতাংশ বই ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। মোট মুদ্রিত বইয়ের সংখ্যা ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি, যা দেশের বৃহত্তম শিক্ষামূলক প্রকল্পের একটি হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহানা পারভীন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তারা ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তকের গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী স্বাগত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগের ভূমিকা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা এই প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ বই পাবে, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী একই দিনে বই পাবে, ফলে শিক্ষার গতি বজায় থাকবে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশ বই প্রথম দিনেই হাতে পৌঁছাবে। বাকি অংশের বই কয়েক দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: এনসিটিবি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার শ্রেণি ও বিষয় অনুযায়ী সফটকপি ডাউনলোড করুন। ডাউনলোড করা ফাইলগুলো মোবাইল বা ট্যাবলেটে সংরক্ষণ করে যেকোনো সময় পড়া সম্ভব।
আপনার মতামত ও প্রশ্ন নিচের মন্তব্যে শেয়ার করুন; আমরা পরবর্তী আপডেটের মাধ্যমে আরও তথ্য জানাব।



