রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানবকল্যাণ পরিষদে অনুষ্ঠিত আলেম‑ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে ‘ক্রান্তিকাল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা ও আন্দোলন সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং কিছু গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পেছন থেকে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং অন্ধকারের দিকে ফিরে না যাওয়া জরুরি বলে তিনি জোর দেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার কোনো প্রচেষ্টা হলে তা রোধ করা দরকার। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এ কথায় তিনি জোর দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশই মুসলমান এবং তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার দায়িত্ব প্রধানত মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে এবং কোরআন‑সুন্নাহের বাইরে কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না, এটাই তাদের অঙ্গীকার।
বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তিনি উপস্থিত আলেম‑ওলামাদের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটের জন্য আহ্বান জানান এবং চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ। ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে এবং বিএনপির ভোটার ভিত্তি জোরদার করার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের শিকার হতে দেবেন না। এই ধরনের সতর্কবার্তা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
বিএনপির এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিরোধী দল ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংহতি জোরদার করে ভোটের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে, সরকারী দলও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে, যদিও এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
আসন্ন নির্বাচনের সময়সূচি ও রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা বিবেচনা করে, মির্জা ফখরুলের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তার বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি তার সমর্থকদের মধ্যে ধর্মীয় সংহতি ও আইনগত নীতির প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে, যা ভোটার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ঠাকুরগাঁওয়ের সভা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মির্জা ফখরুলের দেশ অস্থিরতা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই ধরনের প্রকাশনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।



