27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাউজানে দরজা আটকে বসতঘরে আগুন জ্বালানোর অভিযোগে মোরশেদুল আলম গ্রেপ্তার

রাউজানে দরজা আটকে বসতঘরে আগুন জ্বালানোর অভিযোগে মোরশেদুল আলম গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বিভাগের রাউজান উপজেলায় রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৪টার দিকে একটি বসতঘরে দরজা বাইরে থেকে আটকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটার পর, ৫৫ বছর বয়সী মোরশেদুল আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলটি রাউজান থানা অধীনে থাকা গহিরা গ্রাম এবং সন্দেহভাজনকে কাপড় সংরক্ষণের ভ্যানে আগুন জ্বালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ধরা পড়ে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কেরোসিনের একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়।

সেই রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে, রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি বাড়িতে দরজা বাইরে থেকে আটকে বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। বাড়ির মালিক কাতার ভিত্তিক প্রবাসী সুখ শীল, যার সঙ্গে তার বোন ও বোনের স্বামী অনিল শীল বাস করছিলেন। আগুনের সূত্রপাতের সময় দরজা বন্ধ থাকায় ভেতরের বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ নিরাপদে বের হতে পারেননি।

রাউজান থানা ওয়াকিং অফিসার সাজেদুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সন্দেহভাজন মোরশেদুল আলম গহিরা এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি কাপড় সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ভ্যানে আগুন জ্বালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশ দল তার গৃহে হস্তক্ষেপের সময় কেরোসিনের বোতল এবং কিছু অজানা ব্যানার জব্দ করে।

মোরশেদুল আলমের পটভূমি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে তিনি স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসকারী এবং পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তবে, তার বাড়িতে গৃহ অনুসন্ধানের সময় পাওয়া ব্যানারগুলো থেকে তদন্তকারীরা অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনকে শনিবার আদালতে উপস্থিত করে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে রিম্যান্ডের আওতায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাকে দায়ের করা অভিযোগের বিশদ এবং সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পুলিশের মতে, মোরশেদুল আলমের হাতে কেরোসিনের বোতল পাওয়া যাওয়ায় তাকে আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া, বাড়িতে জব্দ করা ব্যানারগুলো থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি কিছু রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছিলেন, যদিও এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলমান।

সাজেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সন্দেহভাজন বা সহায়ক ব্যক্তির সন্ধান করা হতে পারে।

এই ঘটনার পূর্বে, মঙ্গলবার ভোরে রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ওয়ার্ডে একই রকম একটি আগুনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে দরজা বাইরে থেকে আটকে বসতঘরে আগুন লাগার ফলে বাসিন্দারা বিপদে পড়ে। ঐ বাড়ির মালিক কাতার ভিত্তিক প্রবাসী সুখ শীল এবং তার পরিবারই সেই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এই ধরনের আগুনের ঘটনা রোধে বাড়ির দরজা সঠিকভাবে বন্ধ রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি পদার্থের সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া, সন্দেহজনক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইনি দিক থেকে, মোরশেদুল আলমের বিরুদ্ধে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন লাগানোর অভিযোগে আইনের ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত তার রিম্যান্ডের শর্তাবলী নির্ধারণের পর, পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে।

এই মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য পাওয়া না গেলে, সংবাদ সংস্থা এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পাঠকদের আপডেট প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, রাউজানে দরজা আটকে বসতঘরে আগুন জ্বালানোর ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের ঝুঁকি উন্মোচিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments