চট্টগ্রাম রয়্যালসের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম অনুশীলন সেশনের সময় মাথায় আঘাত পেয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দলীয় অনুশীলন চলাকালে সহকর্মী এক ক্রিকেটারের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ফলে তার মাথার এক পাশে ব্যথা অনুভূত হয়।
ঘটনাটি দলের প্রশিক্ষণ মাঠে ঘটেছে, যেখানে খেলোয়াড়রা শারীরিক প্রস্তুতির জন্য তীব্র ব্যায়াম চালিয়ে যাচ্ছিল। ধাক্কা পাওয়ার পর শরিফুল তৎক্ষণাৎ সিটে বসে ব্যথা প্রকাশ করেন এবং সাথীর সহায়তায় মাঠ থেকে বেরিয়ে আসেন।
শরিফুল কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডা সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন, যা তার শ্বাসপ্রশ্বাসে কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করছিল। তবে অনুশীলনের সময় হঠাৎ মাথায় আঘাত পাওয়া তাকে অতিরিক্ত ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে আগামীকাল নির্ধারিত ম্যাচের আগে।
দলটি আগামীকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয়। চিকিৎসা দলকে জানানো হয়েছে যে, শারীরিক অবস্থার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য জানান, আঘাতটি গুরুতর নয় বলে প্রথম ধারণা পাওয়া গেলেও মাথায় আঘাতের কারণে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফল পাওয়া মাত্রই খেলোয়াড়ের অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
ডাক্তাররা শিরা-স্নায়ু সংক্রান্ত কোনো জটিলতা না থাকলে শীঘ্রই রোগীকে হালকা পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেন, তবে বর্তমানে রেডিয়াল স্ক্যান এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে।
শরিফুলের অনুপস্থিতি দলের পেসিং বিকল্পকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ তিনি দলের প্রধান বাঁহাতি পেসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোচের মতে, বিকল্প পেসারদের প্রস্তুতি বাড়াতে হবে এবং ব্যাটিং লাইনআপে সাময়িক পরিবর্তন করা হতে পারে।
শরিফুলের ক্যারিয়ার শুরু থেকে তিনি দ্রুত দলের মূল পেসার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, তার গতি এবং সঠিক লাইন দিয়ে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ করেন। গত মৌসুমে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে, তবে এই অনুশীলন আঘাত দলকে কিছুটা অস্থির করতে পারে। দলটি এখনো টুর্নামেন্টের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখার জন্য কৌশলগত পরিবর্তন বিবেচনা করছে।
আগামীকাল নির্ধারিত ম্যাচে যদি শরিফুলের অবস্থা অনুমোদিত না হয়, তবে দলের তরুণ পেসাররা সুযোগ পাবে এবং কোচের নির্দেশে দ্রুত রোল পরিবর্তন করা হতে পারে। এই পরিস্থিতি দলের সামগ্রিক গতি ও ব্যাটিং পরিকল্পনায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে।
কোচের মন্তব্যে দেখা যায়, “দলীয় স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার সর্বোচ্চ, তাই আমরা রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নেব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিকল্প পেসারদের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে হবে, যাতে ম্যাচে কোনো ফাঁক না থাকে।”
শরিফুলের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা ফলাফল দলের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে, দলটি সতর্কতা অবলম্বন করে ম্যাচের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে এবং রোগীর স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।



