বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুলশান‑এ অবস্থিত পার্টির কার্যালয়ে নতুন চেম্বার প্রস্তুত করে অফিসের দরজা খুলে দিলেন। তিনি দেশের ফেরার দুদিন পর রোববার, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে গুলশান অ্যাভিনিউ ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে গাড়ি চালিয়ে অফিসে পৌঁছান।
গুলশানের ওই অফিসে তারেকের জন্য আলাদা চেম্বার আগে থেকেই সাজানো ছিল, যা এক এগারোর পট পরিবর্তনের পরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য নতুনভাবে গৃহীত হয়। তারেকের গাড়ি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান ফুল হাতে স্বাগত জানালেন।
সেই সময়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির, রিজভী মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বগুড়া জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত সমারোহের পর সব উপস্থিত ব্যক্তির সঙ্গে হাতমিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে, তারেক গুলশানের অফিসের দ্বিতীয় তলায় নিজের চেম্বারে বসেন।
নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অফিসে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য পৃথক চেম্বার রয়েছে।
গুলশানে অতিরিক্ত একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে আসার পর থেকে তিনি ব্যস্ত সময়সূচি মেনে চলছেন। প্রথম দিন পার্টির সংবর্ধনা ও বক্তৃতা শেষে, তিনি মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে রাতে তারেক ও পরিবারের সদস্যরা গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে পৌঁছান। তারেকের বাবা, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে তার মাকে এই বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসে বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপার্সনের কাছে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু হস্তান্তর করেন।
গুলশান অ্যাভিনিউ ১৯৬ নম্বর বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িতে তার মা, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বসবাস করছেন।
পরদিন শুক্রবার বিকালে, তারেক এবং পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। এই ভিজিটটি পার্টির ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।
বিএনপি’র নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক উপস্থিতি ও অফিসের কার্যকরী চালু করা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুলশান ও নয়া পল্টনের অফিসকে মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করবেন বলে জানা গেছে।



