ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত শনিবার ১০ জনকে বাড়িতে আটক করার আদেশ জারি করেছে, যারা ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পরাজয়ের পর জায়র বোলসোনারোকে ক্ষমতা বজায় রাখতে ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে দে মোরেসের হাতে গৃহীত হয়।
এই দশজনের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পূর্বে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং সাজা কার্যকর করা হলেও তারা আপিলের অপেক্ষায় থাকায় মুক্তি পেয়েছিলেন। তাদের ওপর অ্যান্কল মনিটর ব্যবহার, রাতের সময় নির্দিষ্ট স্থানে থাকা ইত্যাদি সতর্কতামূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।
সিলভিনেই ভাসকেস, যিনি ব্রাজিলের ফেডারেল হাইওয়ে পুলিশের প্রাক্তন পরিচালক, পারাগুয়েতে আটক হওয়ার পর ব্রাজিলে প্রত্যর্পণ করা হয়। পারাগুয়েতে তিনি ভুয়া পারাগুয়ান পাসপোর্ট দিয়ে এল স্যালভাদরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভাসকেস বৃহস্পতিবার অ্যান্কল মনিটর খুলে ভাড়া গাড়িতে পারাগুয়ে গিয়েছিলেন, যা তার পালানোর ইচ্ছা নির্দেশ করে।
বাকি নয়জনের ওপরও একই বাড়ি আটকের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন বোলসোনারোর প্রাক্তন উপদেষ্টা ফিলিপে মার্টিন্স, যাকে আদালত কূটনৈতিক পরিকল্পনা, আইনি যুক্তি তৈরি করা এবং সামাজিক মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বোলসোনারোর ক্ষমতা রক্ষা করার অভিযোগে দায়ী করেছে।
মার্টিন্সের আইনজীবী জেফ্রি চিকুইনি আদালতের সিদ্ধান্তের পর এক ভিডিওতে জানিয়েছেন যে তারা আপিল দায়ের করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “ফিলিপে মার্টিন্স আজ পর্যন্ত অ্যান্কল মনিটর পরিধান করছিলেন এবং তার শহর ছাড়তে অনুমতি ছিল না, এখন কী পরিবর্তন হয়েছে।” এই বক্তব্য থেকে দেখা যায়, আইনগত লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বাড়ি আটকের পাশাপাশি আদালত তাদেরকে দর্শনার্থী গ্রহণ, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার এবং বর্তমান তদন্তাধীন অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া তাদের পাসপোর্ট ও অস্ত্র লাইসেন্স ফেরত দিতে হবে, যা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সীমাবদ্ধ করবে।
সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট বোলসোনারোকে নির্বাচনের পর ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে দোষী ঘোষণা করেছিল। এই রায়ের পর ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার কঠোরতা প্রকাশ করে।
প্রতিবাদী পক্ষের মতে, এই ধরনের কঠোর শর্ত আরোপ করা রাজনৈতিক দমনমূলক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা দাবি করে যে অভিযুক্তরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপিল দায়ের করবে এবং তাদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই সিদ্ধান্ত বোলসোনারোর নেটওয়ার্ককে দুর্বল করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার সমর্থকদের কার্যক্রম সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে, বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীন রাখার সংকেত হিসেবে এই রায়কে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আদালত কীভাবে আরও পদক্ষেপ নেবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



