আজ (রবিবার) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‑র সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনার সামান্থা শারমিন তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে জামায়াত‑ইসলামি পার্টি এনসিপি‑র জন্য নির্ভরযোগ্য জোটের অংশ নয় এবং কোনো সিট‑শেয়ারিং চুক্তি পার্টিকে বিশাল মূল্য দিতে পারে। তিনি এই মন্তব্যটি পার্টির আসন্ন নির্বাচনী সিট‑নেগোশিয়েশনের আলোচনার মাঝামাঝি প্রকাশ করেন।
শারমিনের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনো সহযোগিতা, এমনকি তাদের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যও, এনসিপি‑র জন্য উচ্চমূল্যবোধের দায়িত্ব বহন করবে। তিনি এই কথাটি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে পার্টির স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে “জুলাইয়ের আত্মা” ও পার্টির জাতীয় রোডম্যাপের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জোট গঠন সম্ভব হতে পারে। এই মন্তব্যগুলো শারমিনের সতর্কতার সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ, কারণ উভয় পার্টির মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্যভেদ স্পষ্ট।
শারমিন এনসিপি‑র মূল নীতিগুলো – ন্যায়বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” গঠনের জন্য সংবিধানিক সমাবেশের নির্বাচন – জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে অমিলের দিকটি পুনরায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই নীতিগুলো কোনো রাজনৈতিক জোটের শর্তে আপস করা যাবে না এবং সেগুলো পার্টির অটুট ভিত্তি।
এছাড়া, শারমিন জামায়াতের পার্লামেন্টারি সংস্কার বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে তারা সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতির বিরোধিতা করে। এই অবস্থান এনসিপি‑র পূর্বের জোট প্রত্যাখ্যানের কারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা পার্টি এখনো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
জুলাই উত্থানের পর এনসিপি ঘোষণা করেছে যে তারা ৩০০টি সংসদীয় সিটে স্বাধীনভাবে প্রার্থী দায়ের করবে এবং কোনো জোটের বাধ্যবাধকতা ছাড়া দেশব্যাপী প্রার্থীদের স্বাগত জানাবে। এই সিদ্ধান্তটি পার্টির স্বতন্ত্রতা ও নির্বাচনী স্বায়ত্তশাসনকে জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
শারমিন স্পষ্ট করে বলেছেন যে জামায়াতের প্রতি তার সমালোচনা কোনোভাবে বিএনপি‑কে সমর্থন হিসেবে নয়; তিনি নিজেকে “এনসিপি‑র আদর্শের সৈনিক” হিসেবে পরিচয় দেন এবং জামায়াত বা বিএনপি‑র সঙ্গে কোনো জোটের আলোচনা পার্টির প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগত কৌশল থেকে বিচ্যুতি ঘটাবে বলে সতর্ক করেন।
একই সময়ে, জামায়াত‑ইসলামি নেতা তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার কবরের পাশে প্রার্থনা করেন, যা রাজনৈতিক প্রতীকবাদের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই কর্মকাণ্ডটি পার্টির ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের মিশ্রণকে প্রকাশ করে।
আজ রোববার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নজরুল ইসলাম একটি সংবাদ সম্মেলনে শারমিনের মন্তব্য ও এনসিপি‑র নির্বাচনী পরিকল্পনা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পার্টি কোনো জোটে প্রবেশ না করে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক সমতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে জোটের সম্ভাবনা ও সিট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, তবে এনসিপি‑র মৌলিক নীতি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম।



