পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ খেলোয়াড়ের একটি দল প্রকাশ করেছে। সিরিজটি নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে এবং ত্রয়ী ম্যাচের মাধ্যমে দুই দলের পারস্পরিক ক্ষমতা যাচাই করবে।
এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো উইকেটরক্ষক‑ব্যাটার খাজা নাফেসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নাফেসের এই ডাকে তিনি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি পঞ্চমাংশে নতুন মুখ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার পূর্বে শ্রীলঙ্কা বিরোধী ম্যাচে অংশগ্রহণের কোনো রেকর্ড নেই, তবে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই সুযোগ পেয়েছেন।
দলটিতে বিগ ব্যাশ লিগের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কয়েকজন খেলোয়াড়ও অন্তর্ভুক্ত। বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি এই সিরিজে অংশ নেবেন, যদিও তারা অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন না। তাদের উপস্থিতি টিমের ব্যাটিং শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শ্রেষ্ঠ বোলার ও অলরাউন্ডার শাদাব খানও দলে ফিরে এসেছেন। তিনি বর্তমানে বিগ ব্যাশে সক্রিয়ভাবে খেলছেন এবং তার বোলিং গতি ও ভ্যারিয়েশন টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হবে। এছাড়া সালমান আলী আগা দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, সঙ্গে রয়েছে সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ নওয়াজ, সালমান মির্জা, উসমান খান, আবরার আহমেদ এবং ফাহিম আশরাফ।
বিগ ব্যাশের এই মৌসুমে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুই শ্রীলঙ্কা সিরিজে উপস্থিত হবে না, কারণ তারা অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্টে ব্যস্ত। ফলে এই সিরিজে শুধুমাত্র পিসিবি-নির্বাচিত খেলোয়াড়দেরই সুযোগ থাকবে, যা টিমের গঠনকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।
একই সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলমান, যেখানে বেশিরভাগ বিদেশি খেলোয়াড় পাকিস্তানি। তবে সিরিজের সময়সূচি ও দায়িত্বের কারণে এই সিরিজে ডাকা খেলোয়াড়রা বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজের সঙ্গে তাদের চুক্তি মেনে চলতে পারবে না, ফলে তাদের উপস্থিতি বিপিএলে সীমিত থাকবে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ৯ এবং ১১ জানুয়ারি দুটো ম্যাচ ধারাবাহিকভাবে ডাম্বুলার রনগিরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মাধ্যমে উভয় দল তাদের কৌশল ও ফর্ম যাচাই করবে, যা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডাম্বুলার রনগিরি স্টেডিয়াম, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য পরিচিত, এখানে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। স্টেডিয়ামের পিচ দ্রুত গতি ও মাঝারি বাউন্স প্রদান করে, যা ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক খেলা এবং বোলারদের ভ্যারিয়েশনকে উত্সাহিত করে।
এই সিরিজটি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে পরিকল্পিত, যেখানে পাকিস্তান ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ খেলবে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের মাধ্যমে দলটি শর্তাবলী, দলগত সমন্বয় এবং মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
সালমান আলী আগা, যিনি টিমের অধিনায়ক, তার নেতৃত্বে দলটি শৃঙ্খলা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখবে। তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও মাঠের অভিজ্ঞতা টিমকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
উইকেটরক্ষক হিসেবে নাফেসের পাশাপাশি সাহিবজাদা ফারহান, উসমান খান এবং উসমান তারিকও দলে অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজনের সমন্বয় ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই টিমের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তাদের উপস্থিতি টিমের গভীরতা বাড়াবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিকল্প প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপে, পাকিস্তানের নতুন ১৫ সদস্যের দল শ্রীলঙ্কা বিরোধী টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে প্রস্তুত, যেখানে নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয় দেখা যাবে। সিরিজের ফলাফল টিমের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, এবং শ্রীলঙ্কার রনগিরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই তিনটি ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করবে।



