ইতালির জেনোয়া শহরের পুলিশ ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের ওপর হামাসকে তহবিল সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারটি অ্যান্টি-মাফিয়া ও অ্যান্টি-টেরর ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এক অভিযানের ফল।
অভিযানটি ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় জেনোয়া কৌঁসুলির ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্দেহভাজনরা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এবং তাদের তহবিলের প্রবাহে সহায়তা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
পুলিশের বিবরণে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গত দুই বছর ধরে প্রায় ৭ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করে তা হামাসের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। এই অর্থগুলোকে মানবিক উদ্দেশ্য বলে দাবি করা হলেও, তদন্তে তা তহবিলের অবৈধ প্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অভিযামের সময় প্রায় ৮ মিলিয়ন ইউরোর বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থার হিসাবপত্র অন্তর্ভুক্ত। এই সম্পদগুলোকে তহবিলের গোপন রুট হিসেবে ধরা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয় এবং তা নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য ইইউ সদস্য দেশের সহযোগিতায় বিস্তৃত হয়। ইইউয়ের বিচারিক সংস্থা ইউরোজাস্টের মাধ্যমে সব দিক সমন্বয় করা হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে এটিকে “জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তথাকথিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে হামাসের তহবিল সরবরাহের গোপন নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে।
মেলোনি আরও বলেন, এই ধরনের আর্থিক সহায়তা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য। তিনি ইইউ এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়কে প্রশংসা করেছেন, যা তদন্তকে দ্রুততর করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর রায়টার্সের অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেনি। ইসরায়েল ও ইতালির কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই নীরবতা নজরে এসেছে।
মেলোনি গাজার দুই বছরের সংঘর্ষে ইসরায়েলকে সমর্থন করার পর থেকে ইতালিতে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। রাস্তায় বড় বড় বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা সরকারকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা স্বীকৃত এবং সংঘাতের মানবিক দিককে তুলে ধরে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইতালির আদালতে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী শীঘ্রই ফৌজদারি মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। সন্দেহভাজনদের জমানত বা জামিনের শর্তও নির্ধারিত হতে পারে।
অধিক তদন্তে দেখা যাবে, কতটুকু তহবিল প্রকৃত মানবিক কাজের জন্য ব্যবহার হয়েছে এবং কতটুকু সশস্ত্র সংগঠনের হাতে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইতালির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভবিষ্যতে অনুরূপ তহবিল প্রবাহ রোধে তত্ত্বাবধান বাড়াবে এবং দাতব্য সংস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে পারে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ইতালির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আর্থিক তদারকি ব্যবস্থার ওপর বাড়বে, এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অনুরূপ তদন্তের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।



