বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা‑১৭ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারেকের মনোনয়ন ফরম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কাজ আজ সকাল ১০ঃ৫০টায় সম্পন্ন হয়েছে। ফরম সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, যিনি সেগুনবাগিচা অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করেছেন।
আসনের ভৌগোলিক গঠনকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, ঢাকা‑১৭ গুলশান‑বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি ইত্যাদি সমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে গঠিত, যেখানে উচ্চ আয়ের পরিবার ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী প্রধান ভোটার। এই প্রোফাইলের কারণে দলীয় কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এর চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছিলেন বলে জানানো হয়। তবে পার্থের নাম শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়ে তিনি ভোলা‑১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।
দিল্লি-ঢাকা অঞ্চলের মোট ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে, পূর্বে তিনটি আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী না রেখে গিয়েছিল, যার মধ্যে ঢাকা‑১৭ অন্তর্ভুক্ত। এই ফাঁকা আসনগুলো পূরণ করা দলের জন্য জরুরি, বিশেষ করে শহুরে ভোটারদের মনোভাব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার তারেক রহমান ঢাকা‑১৭ আসনের ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনপত্রের সঙ্গে সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করেন।
সেই অনুরোধের পর, পার্থের দলীয় সহকর্মীরা পার্থের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি ভোলা‑১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। এই পরিবর্তনটি জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় বজায় রাখতে এবং একে অপরের প্রচারণা কার্যক্রমে বাধা না দিতে নেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া, তারেক রহমান বগুড়া‑৬ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হওয়া তার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি দলকে বিভিন্ন অঞ্চলে সমর্থন সংগ্রহে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি কর্মীদের মধ্যে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, তারেকের প্রোফাইল ও অভিজ্ঞতা ঢাকা‑১৭ এর ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে এবং জোটের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি তারেকের প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তবে বিএনপি ও বিজেপি জোটের জন্য এই আসনে জয়ী হওয়া সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলও এই পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
নির্বাচনের শেষ তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের নাম নিবন্ধন, প্রচারণা শুরু এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। এখন পর্যন্ত তারেকের মনোনয়ন ফরম অনুমোদিত হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম নিবন্ধন এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হওয়া বাকি।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলীয় কর্মীরা এখন থেকে গুলশান, বানানী, বারিধারার ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াবে, স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের ঢাকা‑১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হওয়ায় জোটের কৌশলগত অবস্থান পুনরায় গঠন হয়েছে, এবং বিজেপি পার্থের ভোলা‑১ আসনে স্থানান্তর জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



