সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হাদ্রামাউত প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) যে কোনো সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি প্রতিহত করার দৃঢ় সতর্কতা জানিয়েছে। এই ঘোষণাটি শনিবার জোটের মুখপাত্র জেনারেল তুর্কি আল‑মালকি প্রদান করেন, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (PLC) প্রধান রাশাদ আল‑আলিমির নাগরিক সুরক্ষার আবেদনকে উল্লেখ করেন।
জোটের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা কোনো পদক্ষেপের মুখে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই অবস্থানটি রায়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত, যেখানে জোটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।
STC গত মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ করে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে এডেন সদর দপ্তর থেকে বিতাড়িত করে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এই পদক্ষেপের পর থেকে, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশে তাদের আধিপত্য জোরদার করার সংকল্প প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, জোটের পক্ষ থেকে STC-কে অধিগ্রহণকৃত অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হলেও, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ১৯৯০ সালের পূর্বের দুই ভাগে বিভক্ত ইয়েমেনের স্বাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে দাবি করে। এই রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য তারা দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানও সামাজিক মাধ্যমে STC-কে মধ্যস্থতা ও ঐক্যমত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশের শিবির থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করে, সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা উচিত এবং সৌদি‑সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা প্রয়োজন।
প্রিন্সের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, “STC‑এর জন্য উত্তেজনা শেষ করার সময় এসেছে; দুই প্রদেশের শিবির থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করে, সেগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।” এই আহ্বানটি জোটের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে STC‑এর প্রত্যাখ্যানের ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হাদ্রামাউতের ওয়াদি নাহব এলাকায় জোটের বিমানবাহিনী STC‑এর অবস্থান লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক আকাশীয় হামলা চালায়। যদিও আক্রমণের পরিসর ও ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে এই পদক্ষেপটি জোটের সতর্কতা বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে জোটের পক্ষ থেকে আক্রমণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে পূর্বে জোটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বেসামরিক নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উত্তেজনা হ্রাস করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, জোটের আকাশীয় হস্তক্ষেপ এবং STC‑এর দৃঢ় অবস্থান উভয়ই সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ইতিমধ্যে মানবিক সংকটের মুখে থাকা দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলি এই উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে শরণার্থী প্রবাহ ও মৌলিক সেবার অভাব বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনসহ সৌদি‑নেতৃত্বাধীন জোটের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এখনো চলমান। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে সংলাপের পথে ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়ে, স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
পরবর্তী সময়ে, জোটের সম্ভাব্য অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ এবং STC‑এর প্রত্যাখ্যানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। যদি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশে নতুন রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পুরো দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং মানবিক সাহায্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি কমিয়ে, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রগতি করা যায়।



