অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান আজ সন্ধ্যা প্রায় ৯:৩০ টায় পদত্যাগের চিঠি স্বাক্ষর করে রাষ্ট্রপতির কাছে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর প্রস্তুতি জানিয়ে দেন। তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ত্রাণপ্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ‑১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে প্রকাশ্যে জানান।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিরুল ইসলাম সুমন উল্লেখ করেন, আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের চিঠি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং শীঘ্রই আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল কে হবেন তা নিয়ে তিনি কোনো তথ্য না থাকায় “আমি জানি না” বলে স্পষ্ট করেন।
আসাদুজ্জামানকে ফোনে পৌঁছানোর বহুবার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্যের অপেক্ষা এখনও রয়ে গেছে।
নভেম্বর ৫ তারিখে তিনি নিজস্ব অফিসে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, “আমি আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দৌড়াব এবং তার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দেব।” তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিজের রাজনৈতিক দায়িত্বকে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করে বলেন, “বাংলাদেশের সরকার যাকে উপযুক্ত মনে করবে, তাকে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেবে।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি নতুন নিয়োগে কোনো হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেননি।
আসাদুজ্জামান, যিনি পূর্বে বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছেন, আগস্ট ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতি দ্বারা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হন। তার রাজনৈতিক পটভূমি ও আইনি অভিজ্ঞতা তাকে সরকারের শীর্ষ আইনগত পদে পৌঁছে দেয়, যা এখন তিনি ত্যাগ করছেন।
একই সময়ে, বিএনপি নেতা তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার সমাধিতে প্রার্থনা করেন। এই অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে গভীর আবেগময় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং বিএনপির ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কোনো জোট গঠন করা হলে তাদের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে। এই মন্তব্যটি পার্টির স্বতন্ত্রতা ও নীতিগত পরিষ্কার রেখা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ এবং তার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করবে। শীঘ্রই সরকারকে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, আর বিএনপি তার নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করতে ঝিনাইদহ‑১ আসনে তার প্রভাব ব্যবহার করবে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে দেশের আইনগত ও রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে তা নজরে থাকবে।



