বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোচ সৌম্য সরকার, যিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি আর কোনো “পঞ্চপাণ্ডব” গঠনের পক্ষে নন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের পাঁচজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের নাম—মাশরাফি বিন মর্তজা, শাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ—যারা একসঙ্গে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা স্মরণীয় হলেও এখন এমন কোনো সমাবেশের প্রয়োজন নেই।
এই পাঁচজনকে “পঞ্চপাণ্ডব” বলে ভক্ত ও মিডিয়া উভয়ই স্বীকৃতি দিয়েছে; তাদের যুগে দলটি ধারাবাহিকভাবে জয়লাভের শীর্ষে পৌঁছেছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে নতুন খেলোয়াড়দের উত্থান ঘটলেও, একই রকম পাঁচজনের গোষ্ঠী গড়ে তোলার ধারণা সবসময় সমর্থন পায়নি।
সম্প্রতি বিশ্লেষক উৎপল শুভ্র উল্লেখ করেন, তিনি একসময় ভেবেছিলেন যে বর্তমান দলের মধ্যে লিটন দাস, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান এবং নিজেই সৌম্য সরকারই নতুন “পঞ্চপাণ্ডব” গঠন করতে পারেন। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দলটি ঐ ধারণা থেকে দূরে সরে গেছে।
সৌম্য সরকারের মতে, যদিও কিছু খেলোয়াড়ের নাম প্রায়ই উল্লেখ করা হয়, তবু প্রত্যাশিত ম্যাচ জয় অর্জনে পুরো দলই একসঙ্গে কাজ করতে পারেনি। তিনি স্বীকার করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না দেখাতে পারা দলের নিজেরই ভুল, এবং এই দোষ স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোচের মতে, নতুন কোনো “পঞ্চপাণ্ডব” না গড়ে ওঠা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো গোষ্ঠী গঠনের ইচ্ছা নেই এবং দলকে একক গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল না করে সমগ্রভাবে শক্তিশালী করতে চান।
এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি পাঁচজন খেলোয়াড়কে আলাদা করে গড়ে তোলা হয়, তবে দলীয় ঐক্য ভেঙে যায়। পাঁচজনের পারফরম্যান্সের বাইরে বাকি ছয়জনের অবদান উপেক্ষা করা হয়, ফলে সমগ্র স্কোরের মূল্য কমে যায়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক গোষ্ঠীর রানের মূল্য স্বতন্ত্রভাবে গণনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।
সৌম্য সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি আন্তর্জাতিক ফুটবলার মেসির উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মেসি একা গোল করতে পারলেও তার গোলের জন্য দলের পাস ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তেমনি ক্রিকেটে পাঁচজনের পারফরম্যান্সের জন্য বাকি ছয়জনের সমর্থন অপরিহার্য।
সারসংক্ষেপে, কোচ সৌম্য সরকার দলকে সমগ্রভাবে উন্নত করার ওপর জোর দিচ্ছেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে পুরো দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে। এদিকে, বাংলাদেশি ক্রিকেটের পরবর্তী সিরিজের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যেখানে নতুন কৌশল ও সমন্বিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখা যাবে।



