19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের প্রেসিডেন্ট বললেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপ দেশকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখে

ইরানের প্রেসিডেন্ট বললেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপ দেশকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তার মন্তব্যটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটান্যাহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোমবারের সাক্ষাতের আগে প্রকাশিত হয়। একই সময়ে, ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সংযমবিধি পুনঃপ্রয়োগের ছয় মাস পার হয়েছে।

পেজেশকিয়ান এই মন্তব্যটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর অফিসিয়াল সাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেন। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরঞ্জাম ও মানবশক্তিতে পূর্বের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। তাই কোনো আক্রমণ করা হলে ইরান তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাবে।

প্রেসিডেন্টের মতে, বর্তমান যুদ্ধের প্রকৃতি পূর্বের যুদ্ধে তুলনায় ভিন্ন এবং আরও জটিল। তিনি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ইরাকের সঙ্গে লড়াই করা যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বর্তমান সংঘর্ষের মাত্রা ও জটিলতা ঐ সময়ের যুদ্ধের চেয়ে বেশি। ঐ যুদ্ধের সময় হাজার হাজার প্রাণ হারিয়েছিল, তবে আজকের পরিস্থিতি তা থেকে আরও কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সন্দেহ প্রকাশ করে। ইরান সরকার এই অভিযোগকে বারবার অস্বীকার করে এবং পারমাণবিক প্রোগ্রামকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে চালু রাখার দাবি করে। এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা হয়, যখন ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সুবিধা এবং নাগরিক এলাকায় বিস্তৃত আক্রমণ চালায়। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণে এক হাজারের বেশি মানুষ আহত বা নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রও হস্তক্ষেপ করে, ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থানে বোমা হামলা চালায়। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া আলোচনার ধারাকে থামিয়ে দেয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্বেতভবনে ফিরে আসার পর থেকে, তার প্রশাসন ইরানের ওপর “সর্বোচ্চ চাপ” নীতি পুনরায় চালু করেছে। এই নীতি পূর্বে আরব-ইরান যুদ্ধের সময় গৃহীত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের ধারাকে পুনরায় সক্রিয় করে, যা ইরানের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে নতুন মোড় আনতে পারে। ভবিষ্যতে ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়তে পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের পুনরায় সূচনা কঠিন হতে পারে। তবে ইরানের সামরিক শক্তি ও জাতীয় গর্বের ওপর জোর দেওয়া দেশীয় সমর্থনকে শক্তিশালী করতে পারে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপে প্রভাব ফেলবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments