22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমিয়ানমার সামরিক শাসন পাঁচ বছর পর নির্বাচন পরিচালনা করে

মিয়ানমার সামরিক শাসন পাঁচ বছর পর নির্বাচন পরিচালনা করে

মিয়ানমার সামরিক শাসক দল পাঁচ বছর পর প্রথম ভোটদান কার্যক্রম শুরু করেছে, যেখানে সীমিত সংখ্যক নাগরিকই ভোটের জন্য পলিসি স্টেশনে পৌঁছেছে। ভোটের দিন ছিল রবিবার, এবং নির্বাচনের লক্ষ্যকে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও দেশটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।

সীমিত ভোটার প্রবাহের পাশাপাশি, ভোটদান প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে; বেশিরভাগ ভোটারই শহুরে এলাকায়, যেমন ইয়াঙ্গন, ম্যান্ডালয় এবং রাজধানী ন্যাপিড্যাওয়-এ উপস্থিত হয়েছে। ভোটের জন্য নির্ধারিত সময় সকাল ৬টায় (গ্রীনউইচ গড়মিন ২৩৩০) শুরু হয় এবং তিনটি রাউন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

সামরিক শাসকের প্রধান মিন অং হ্লাইং ভোটের ফলাফলকে “স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত” বলে দাবি করেছেন। তিনি ভোটের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলেন, ভোটের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না কারণ এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বক্তব্যের পরেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের সমালোচনা বিশেষভাবে তীব্র। তারা ভোটকে একধরনের সামরিক সমর্থকদের জন্য সুবিধাজনক তালিকাভুক্তি হিসেবে দেখছেন এবং ভোটের সময় বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এই সমালোচনাগুলি নির্বাচনের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উপর প্রশ্ন তুলেছে।

সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইইডিপি)কে সর্ববৃহৎ পার্টি হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে সামরিক শাসনের পুনঃব্র্যান্ডিং হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যেখানে পার্টির জয়কে শাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

মিয়ানমার প্রায় পঞ্চাশ মিলিয়ন জনসংখ্যা গৃহযুদ্ধের কারণে দুই ভাগে বিভক্ত, এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কোনো ভোটই অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই নির্বাচনের ফলাফল কেবল শাসনাধীন এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রথম রাউন্ডের ভোটদান সকাল ৬টায় শুরু হয় এবং ইয়াঙ্গন, ম্যান্ডালয় ও ন্যাপিড্যাওয় সহ কয়েকটি নির্বাচনী অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল, এবং ভোটারদের জন্য প্রবেশদ্বার সীমিত করা হয়েছিল।

ইয়াঙ্গনের কামায়ুত টাউনশিপে প্রথম ভোটার হিসেবে উপস্থিত বো সাও, ৬৩ বছর বয়সী একজন নাগরিক, ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য নির্বাচনের সামাজিক প্রভাবকে তুলে ধরেছে।

২০২০ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত পূর্বের ভোটে দীর্ঘ লাইন গড়ে উঠেছিল, তবে সামরিক বাহিনী কয়েক মাসের মধ্যে তা বাতিল করে দেয় এবং অং সান সু চি ও তার দলকে গ্রেফতার করে। সেই সময়ের তুলনায়, এইবার ভোটার সংখ্যা কম হলেও, সাংবাদিক ও ভোটিং স্টাফের সংখ্যা বেশি, যা ভোটের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ভবিষ্যতে, এই নির্বাচনের ফলাফল মিয়ানমারের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। যদি সামরিক সমর্থিত পার্টি প্রধান স্থান দখল করে, তবে শাসন কাঠামোতে সামরিক প্রভাব আরও দৃঢ় হবে এবং গৃহযুদ্ধের সমাধান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়তে পারে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার দিক নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments