স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের তীব্র লড়াইয়ে অ্যাস্টন ভিলা ২-১ গোলে চেলসিকে পরাজিত করে। চেলসির ঘরে খেলা হলেও প্রথমার্ধে তাদের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল, তবে মাঝখানে পরিবর্তন এসে ভিলার জয় নিশ্চিত করে। এই জয় ভিলাকে ১১১ বছর পুরনো টানা ১১ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডের সমান অবস্থানে নিয়ে আসে।
প্রথমার্ধে চেলসির আক্রমণাত্মক চাপ স্পষ্ট ছিল; তারা ১০টি শট নেয়ার মধ্যে তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। রিস জেমসের কর্নার থেকে করা কিকের ফলে পেড্রোর পায়ে লেগে বলটি গোললাইনের বাইরে চলে যায়, ফলে চেলসির প্রথম গোল নিশ্চিত হয়। গোলের পরে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ না পেয়ে ভিলার গোলদ্বার বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে ভিলার শুটিং কার্যক্রম প্রথমার্ধে সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ রয়ে যায়। পুরো অর্ধে তারা কোনো শটই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে না, যা এই মৌসুমে কেবল একবারই ঘটেছে—সেই একবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র ম্যাচে। চেলসির শটের সংখ্যার বিপরীতে ভিলার শুটিং শূন্যে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রথমার্ধে তাদের আক্রমণাত্মক হুমকি কমে যায়।
বিরতির পর ভিলার খেলায় ধীরে ধীরে গতি ফিরে আসে। মাঝখানে পরিবর্তন আনা হয়ে ওলি ওয়াটকিন্সকে বদলি করা হয়, যিনি দ্রুতই দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন। ৬৩তম মিনিটে ওয়াটকিন্সের পাসে ভিলার ফরোয়ার্ড শটটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে, আবার ওয়াটকিন্সের পায়ে ফিরে জালে গিয়ে গোলের রূপ নেয়। এই গোলটি ম্যাচের গতিপথকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে।
গোলের পর ভিলার খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আক্রমণ চালিয়ে যায়, যদিও চেলসির প্রতিরক্ষা এখনও দৃঢ় থাকে। তবে ওয়াটকিন্সের সমান করার গোলের পর ভিলার আক্রমণ আরও তীব্র হয়, এবং শেষ পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে না। চূড়ান্ত স্কোর ২-১ রয়ে যায়, যা ভিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
এই জয় ভিলার টানা আটটি প্রিমিয়ার লিগ জয় এবং মোট একাদশটি জয়কে একত্রিত করে, যা ১৮৯৭ সালে প্রথমবার টানা ১১ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডের সমান। ঐ রেকর্ডটি ১৯১৪ সালে পুনরায় ছোঁয়া হয়েছিল, এবং এখন ভিলার বর্তমান দল আবার ঐ ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্পর্শ করেছে।
প্রিমিয়ার লিগের ১৮ রাউন্ড শেষে ভিলা ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে। তাদের পয়েন্টের ঠিক এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয় স্থানে, আর শীর্ষে আর্সেনাল ৪২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে। চেলসি ২৯ পয়েন্টে পঞ্চম স্থানে, লিভারপুল ৩২ পয়েন্টে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
ভিলার এই ধারাবাহিক জয় কেবল লিগেই নয়, সব প্রতিযোগিতায় ছড়িয়ে রয়েছে; তারা মোট একাদশটি ম্যাচ জিতে রেকর্ডের সমান করেছে। এই রেকর্ডের সঙ্গে সঙ্গে দলটি শিরোপা লড়াইয়ের তীব্রতা বজায় রেখেছে, যেখানে শীর্ষ তিন দলই পয়েন্টের পার্থক্য খুব কম। ভিলার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক শক্তি এখন লিগের শীর্ষে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।
সারসংক্ষেপে, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির আধিপত্যের পরেও ভিলার পরিবর্তনশীল কৌশল এবং ওলি ওয়াটকিন্সের সমান করার গোল ম্যাচের ফলাফলকে উল্টে দেয়। ভিলার জয় কেবল তিন পয়েন্ট নয়, বরং ১১১ বছরের পুরনো রেকর্ডের সমান শৃঙ্খলা গড়ে তোলার গর্বও বয়ে আনে। এই জয় দলকে শিরোপা লড়াইয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



