মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) এর প্রধান পিচ কিউরেটর ম্যাট পেজ রবিবার জানিয়েছেন, তিনি চার দিনের চতুর্থ এশেস টেস্টের প্রথম দুই দিনে ঘটিত নাটকীয় ঘটনার সামনে সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গেছেন। পিচে দশ মিলিমিটার ঘাস রেখে দ্রুত বোলারদের জন্য অতিরিক্ত সিম এবং বাউন্স তৈরি করা হয়, যার ফলে ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
টেস্টের প্রথম দুই দিনে মোট ৩৬টি উইকেট নেমে আসে, যার মধ্যে প্রথম দিনেই ২০টি উইকেট নেমে যায়। ১৪২ ওভারের মধ্যে এই রেকর্ড ভাঙা ফলাফল দেখা যায় এবং ইংল্যান্ড চতুর্থ উইকেটের পার্থক্যে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়টি ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রথম জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
ম্যাচের তৃতীয় দিন থেকে চূড়ান্ত পাঁচ দিন পর্যন্ত ৯০,০০০ এর বেশি দর্শক আসার প্রত্যাশা করা হলেও, টিকিটের রিফান্ডের দরকার পড়ে আরসিএ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। পূর্বে পার্থে অনুষ্ঠিত এশেস সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টও দুই দিনেই শেষ হওয়ায় আরসিএয়ের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সিরিজে একাধিক দুই-দিনের টেস্ট দেখা যায়, যা ১২৯ বছর আগে শেষবার ঘটেছিল, যখন পিচগুলো আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা পায় না। পেজ উল্লেখ করেন, “আমি সম্পূর্ণ শকড অবস্থায় ছিলাম, এমন কোনো টেস্টে আগে কখনো অংশ নিইনি এবং আশা করি আর কখনো এমন পরিস্থিতি না দেখা যায়।”
পেজের দল ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে পিচ প্রস্তুত করেছিল, যা দ্রুত বোলারদের জন্য অতিরিক্ত সিম এবং বাউন্স তৈরি করে ব্যাটিংকে কঠিন করে তুলেছিল। এক বছর আগে একই পিচে ঘাস মাত্র সাত মিলিমিটার কাটা হয়েছিল, ফলে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতীয় দলগুলোর মধ্যে পাঁচ দিন পর্যন্ত চলা উত্তেজনাপূর্ণ টেস্ট হয়েছিল, যেখানে অস্ট্রেলিয়া জয়ী হয়েছিল।
এই বছরের টেস্টের আগে শীতল ও বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া এবং পরের দিনগুলোতে তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস পেজকে ভিন্ন পিচ প্রস্তুতির দিকে ধাবিত করে। তিনি বলেন, “ব্যাট ও বলের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে আমরা পুরো টেস্টের সময়ে এমন একটি পিচ তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যাতে দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়।”
পিচে দীর্ঘ ঘাস রেখে পেজের দল তাপের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল, কারণ গরম দিনগুলোতে ঘাসের উপস্থিতি বোলারদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেয়। তবে দ্রুত বোলারদের অতিরিক্ত সিম ও বাউন্সের কারণে ব্যাটিং দলগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত টেস্টের দ্রুত সমাপ্তি ঘটায়।
ইংল্যান্ডের জয় এবং টেস্টের অল্প সময়ে শেষ হওয়া দু’টি বিষয়ই আরসিএয়ের জন্য আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ক্ষতি বয়ে আনবে। টিকিটের রিফান্ডের পাশাপাশি, টেস্টের সংক্ষিপ্ত সময়ের ফলে বিজ্ঞাপন, খাবার-দোকানের বিক্রয় এবং অন্যান্য সেবা থেকে আয় কমে যাবে।
পেজ টেস্টের পর্যালোচনা করে জানান, “আমরা জানি যে পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু হয়নি, তাই উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন একটি টেস্টে অংশ নেওয়া আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আমরা পিচের প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও সতর্ক থাকব।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টেস্টের সময় পিচের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রেফারি নিয়োগ করে থাকে, তবে এই টেস্টে পিচের অতিরিক্ত সিম ও বাউন্সের কারণে ব্যাটিং দলগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পেজের মন্তব্যের ভিত্তিতে আরসিএ এখন পিচের উচ্চতা, ঘাসের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ টেস্টের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এশেস সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে পিচের প্রস্তুতি ও টিকিট বিক্রির বিষয়গুলো বিশেষভাবে নজরে থাকবে, যাতে আরসিএ আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় ক্রিকেট উপভোগের সুযোগ তৈরি করা যায়। টেস্টের ফলাফল এবং পিচের অবস্থা উভয়ই ভবিষ্যৎ সিরিজের পরিকল্পনা ও কৌশলে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, এমসিজি পিচের অপ্রত্যাশিত প্রস্তুতি, দ্রুত বোলারদের অতিরিক্ত সুবিধা এবং শীতল-গরম আবহাওয়ার পরিবর্তন মিলিয়ে টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়েছে, ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে এবং আরসিএ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে। পেজের দল এখন পিচের গুণগত মান উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপ্রত্যাশিত ফলাফল না ঘটে।



