মার্চ ২০২৪-এ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বিরোধী প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা ফ্রগ স্যুট পরিধান করে রাস্তায় নেমে এসেছে। এই আন্দোলন পোর্টল্যান্ড, ওরেগনে এক ব্যক্তি ফ্রগ স্যুটে ইমিগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা স্যালসা নৃত্য শেখানো, স্ন্যাকস বিতরণ এবং একসাইকেল চালানোর মাধ্যমে প্রতিবাদকে উত্সবমুখর পরিবেশে রূপান্তরিত করেছে, যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদারকি করে।
প্রতিবাদে হাস্যরস ও রাজনীতি মেশানোর পদ্ধতিকে সামাজিক বিজ্ঞানীরা “তাকটিক্যাল ফ্রিভিলিটি” বলে সংজ্ঞায়িত করে। এই পদ্ধতি ট্রাম্প যুগে উভয় বাম ও ডানপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখনো আমেরিকান প্রতিবাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা পড়ে। ফ্রগ স্যুটের ব্যবহার এই প্রবণতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা রঙিন পোশাক ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেয়।
ফ্রগের প্রতীকী ব্যবহার পোর্টল্যান্ডের ভিডিওতে শুরু হয়, যেখানে একটি বড় ইনফ্লেটেবল ফ্রগ স্যুট পরা ব্যক্তি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। দৃশ্যটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন শহরে একই রকম পারফরম্যান্সের অনুকরণ দেখা যায়। এই প্রবণতা দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস এবং শিকাগোসহ বড় শহরে ফ্রগ স্যুট পরা প্রতিবাদকারীরা একই থিমে অংশ নেয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ডেভিসের পারফরম্যান্স আর্টে বিশেষজ্ঞ লি এম বোগাদ উল্লেখ করেন যে, ছোট ইনফ্লেটেবল ফ্রগের পেছনে বহু স্তরের অর্থ লুকিয়ে আছে। তিনি বলেন, এই প্রতীকটি হাস্যরসের মাধ্যমে কঠিন রাজনৈতিক বিষয়কে সহজে প্রকাশের সুযোগ দেয় এবং একই সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তোলে।
ফ্রগের উত্সকে পেপে মিমের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, যা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পেপে মূলত একটি কার্টুন ফ্রগ চরিত্র, যা প্রথমে অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন অনুভূতি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হত। পরে এটি ট্রাম্পের সমর্থন চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এমনকি ট্রাম্প নিজেও পেপের একটি ছবি রিটুইট করেন, যেখানে পেপে ট্রাম্পের স্বাক্ষর স্যুট ও চুলে সজ্জিত ছিল।
অনলাইন ফোরাম 4চ্যান, 8চ্যান এবং রেডডিটে পেপের চিত্রকে আরও অন্ধকারময় রূপে উপস্থাপন করা হয়। কিছু ব্যবহারকারী পেপেকে হিটলার বা কুক ক্ল্যানের সদস্যের রূপে দেখিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়। একই সময়ে “রেয়ার পেপে” নামে ডিজিটাল সংগ্রহযোগ্য আইটেমের লেনদেন এবং পেপের নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করা হয়, যা মিমের বাণিজ্যিকীকরণের একটি উদাহরণ।
পেপের স্রষ্টা ম্যাট ফুরি এই বিকৃত ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি মূলত পেপেকে একটি “চিল ফ্রগ-ডুড” হিসেবে তৈরি করেছিলেন, যার কোনো রাজনৈতিক অর্থ ছিল না। ফুরি জানান, মিমের এই অপ্রত্যাশিত রূপান্তর তার মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত এবং তিনি তার চরিত্রের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপও নিতে ইচ্ছুক।
ফ্রগ স্যুটের ব্যবহার এখনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নতুন দিক উন্মোচন করছে। একদিকে এটি বামপন্থী ও ডানপন্থী উভয়েরই সৃজনশীল প্রতিবাদ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে মিম সংস্কৃতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতি কীভাবে বাস্তব রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রতীক আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সামগ্রিকভাবে, ফ্রগ স্যুটের উদ্ভব এবং তার বিস্তার দেখায় যে আধুনিক আমেরিকান প্রতিবাদে হাস্যরস, পারফরম্যান্স এবং ডিজিটাল মিমের সমন্বয় একটি শক্তিশালী যোগাযোগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা কীভাবে রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করবে এবং ভবিষ্যতে কোন নতুন প্রতীক উদ্ভব হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



