২০২৫ সালে ভারতের স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেম মোট প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে, তবে বিনিয়োগকারীরা পূর্বের তুলনায় কম চেক লিখে এবং ঝুঁকি গ্রহণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এই প্রবণতা দেশকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট‑আপ বাজার হিসেবে আলাদা করে তুলেছে।
মোট তহবিলের পরিমাণে ১৭ শতাংশের সামান্য হ্রাস দেখা গেছে, যা পূর্ববছরের $১২.৩ বিলিয়ন থেকে $১০.৫ বিলিয়নে নেমে এসেছে। একই সময়ে তহবিল সংগ্রহের রাউন্ডের সংখ্যা ৩৯ শতাংশ কমে ১,৫১৮ ডিলে নেমে এসেছে, যা বাজারের সক্রিয়তা হ্রাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বীজ পর্যায়ের তহবিল বিশেষভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে; ২০২৪ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১.১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আরও পরীক্ষামূলক প্রকল্পে কম অর্থ বরাদ্দ করছেন, যা নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রাথমিক বাধা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিলম্বিত পর্যায়ের তহবিলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে মোট $৫.৫ বিলিয়ন হয়েছে। এই হ্রাসের পেছনে স্কেল, লাভজনকতা এবং এক্সিট সম্ভাবনার উপর কঠোর পর্যালোচনা কাজ করছে।
অন্যদিকে, প্রারম্ভিক পর্যায়ের তহবিল কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে এবং ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $৩.৯ বিলিয়ন হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা এখন এমন স্টার্ট‑আপে বেশি আগ্রহী, যাদের পণ্য‑বাজারের সামঞ্জস্য এবং আয় পূর্বাভাস স্পষ্ট।
Tracxn-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নেহা সিংহ উল্লেখ করেছেন, বিনিয়োগের দিকনির্দেশ এখন প্রারম্ভিক পর্যায়ের স্টার্ট‑আপের দিকে বেশি ঝুঁকেছে, কারণ প্রতিষ্ঠাতারা শক্তিশালী পণ্য‑বাজার ফিট, আয় দৃশ্যমানতা এবং ইউনিট ইকোনমিক্স প্রদর্শন করতে পারছে। এই পরিবর্তন বাজারের সামগ্রিক দৃঢ়তা বাড়াতে পারে।
এআই স্টার্ট‑আপের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে মোট $৬৪৩ মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ হয়েছে, যা ১০০টি ডিলের মাধ্যমে অর্জিত। পূর্ববছরের তুলনায় ৪.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মোট পরিমাণে এখনও সীমিত।
এআই তহবিলের বণ্টন প্রারম্ভিক ও প্রারম্ভিক‑বৃদ্ধি পর্যায়ে বেশি হয়েছে; প্রারম্ভিক এআই তহবিল $২৭৩.৩ মিলিয়ন, আর প্রারম্ভিক‑বৃদ্ধি পর্যায়ে $২৬০ মিলিয়ন সংগ্রহ হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা এখন অ্যাপ্লিকেশন‑ভিত্তিক এআই ব্যবসার দিকে বেশি ঝুঁকছে, মূলধন‑নিবিড় মডেল ডেভেলপমেন্টের চেয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের এআই তহবিলের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়; সেখানে ২০২৫ সালে $১২১ বিলিয়ন তহবিল ৭৬৫টি ডিলের মাধ্যমে সংগ্রহ হয়েছে, যা ১৪১ শতাংশের বিশাল বৃদ্ধি। অধিকাংশ তহবিল দেরি‑পর্যায়ের ডিলের মাধ্যমে এসেছে, যা ভারতের বাজারের গঠনকে আলাদা করে।
ভারতে এখনও কোনো এআই‑প্রথম কোম্পানি নেই, যার বার্ষিক আয় $৪০‑৫০ মিলিয়ন বা তার বেশি, যদিও কিছু বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ঝুঁকি হিসেবে দেখা যায়, কারণ উচ্চ আয় উৎপাদনকারী এআই ব্যবসা গড়ে তুলতে এখনও পর্যাপ্ত মডেল ও স্কেল নেই।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে ভারতের স্টার্ট‑আপ তহবিলের পরিমাণ সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে, তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ের প্রকল্পে তহবিলের প্রবাহ বাড়ছে। এআই সেক্টরে তহবিলের বৃদ্ধি ধীর হলেও প্রারম্ভিক পর্যায়ে কেন্দ্রীভূত, যা ভবিষ্যতে অ্যাপ্লিকেশন‑ভিত্তিক এআই সমাধানের দিকে দিকনির্দেশনা নির্দেশ করে। বিনিয়োগকারীদের উচিত স্কেলযোগ্য মডেল এবং স্পষ্ট আয় সম্ভাবনা সহ স্টার্ট‑আপে মনোযোগ দেওয়া, যাতে তহবিলের ঘাটতি কাটিয়ে বাজারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়।



