বিনোদন জগতের বিশাল পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপের সূচনা ২০২৬ সালে হতে চলেছে। বিভিন্ন স্টুডিও এবং পরিচালক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন, যা দর্শকের আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে। এই বছরের প্রধান চলচ্চিত্রগুলোতে আন্তর্জাতিক সুপারহিরো, ক্লাসিক উপন্যাসের পুনর্নির্মাণ এবং নতুন সৃজনশীল কাজ অন্তর্ভুক্ত।
২০২৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকা বিশটি চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টিকারী হলেন ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন কাজ, “দ্য ওডিসি”। নোলান ২০২৩ সালে “ওপেনহাইমার” এবং “বার্বি” দিয়ে যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তার পর এই নতুন প্রকল্পটি একই রকম বক্স অফিস উত্থান ঘটাতে পারে কিনা তা শিল্পের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা।
সুপারহিরো জগতে টম হোল্যান্ডের চতুর্থ স্পাইডার-ম্যান চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা বাড়ছে। মারিও ভক্তদের জন্য দ্বিতীয় “সুপার মারিও ব্রাদার্স” চলচ্চিত্রও ২০২৬ সালে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে “দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২” এবং “অ্যাভেঞ্জারস: ডুমসডে” মত বড় বাজেটের সিক্যুয়েলগুলোও দর্শকের দৃষ্টিতে থাকবে।
বৈজ্ঞানিক ফ্যান্টাসি ধারার তৃতীয় “ডিউন” চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি চলছে, যা পূর্বের দুই ভাগের সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে তুলবে। এই সবের পাশাপাশি, অস্কার প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত “হ্যামনেট” নামের চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালে বড় মনোযোগ পাবে।
“হ্যামনেট” মেগি ও’ফারেলের পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (পল মেসকাল) এবং তার স্ত্রী অ্যাগনেস (জেসি বাকলি) এর সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে। শেক্সপিয়ারের “হ্যামলেট” নাটকের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা দুঃখজনক ঘটনার পুনর্নির্মাণ এই ছবির মূল বিষয়।
২০০২ সালে শুরু হওয়া একটি সিরিজের চতুর্থ অংশও ২০২৬ সালে প্রকাশিত হবে। এই অংশটি ২০২৫ সালের “২৮ ইয়ার্স লেটার” এর ধারাবাহিকতা, যেখানে স্পাইক (আলফি উইলিয়ামস) একটি হিংস্র গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যার নেতৃত্বে জিমি ক্রিস্টাল (জ্যাক ও’কনেল) আছেন। একই সঙ্গে ডঃ কেলসন (রালফ ফিয়েন্স) একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কমেডি জগতের নতুন রসিকতা নিয়ে “ইস দিস থিং অন?” চলচ্চিত্রটি তৃতীয়বার ব্র্যাডলি কুপার পরিচালনা করছেন। এই কাজটি তার পূর্বের “এ স্টার ইজ বর্ন” এবং “মাস্তেরো” এর পরের সিক্যুয়েল হিসেবে উল্লেখযোগ্য। চলচ্চিত্রটি কমেডিয়ান জনের ক্যারিয়ারকে কেন্দ্র করে, যিনি হঠাৎ করে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিতে প্রবেশ করে এবং দর্শকদের হাসি এনে দেন।
প্রতীক্ষিত “উদার হাইটস” ছবির ট্রেলার ইতিমধ্যে প্রচুর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবিতে উত্সাহ, আকাঙ্ক্ষা এবং দমিত যৌন উত্তেজনার চিত্রায়ণ রয়েছে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক এমেরাল্ড ফেনেল, যিনি পূর্বে “সাল্টবার্ন” পরিচালনা করেছেন, এবং তিনি আবার জ্যাকব এলর্ডি (হিথক্লিফ) এবং মারগট রোবি (ক্যাথি) কে একসঙ্গে কাজের জন্য বেছে নিয়েছেন।
অ্যামান্ডা সেফ্রাইডের অভিনয়ে “অ্যান লি” নামের চলচ্চিত্রটি ১৮শ শতাব্দীর শেকার ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান লি’র জীবনীকে তুলে ধরবে। এই ঐতিহাসিক চরিত্রের নেতৃত্বে শেকার আন্দোলনের উত্থান এবং তার সামাজিক প্রভাব ছবির মূল বিষয়বস্তু।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে “দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২”, “অ্যাভেঞ্জারস: ডুমসডে”, এবং “ডিউন ৩”। এই সব কাজের প্রত্যাশা উচ্চ, কারণ তারা পূর্বের সিক্যুয়েলগুলোর সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে চায়।
বিনোদন শিল্পের বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই বিশাল পরিসরের চলচ্চিত্রগুলো কোভিড-১৯ লকডাউনের পর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হওয়া বাজারকে নতুন উচ্ছ্বাসে পূর্ণ করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় বাজেটের সিনেমা এবং জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজের ধারাবাহিকতা দর্শকের আগ্রহ বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের চলচ্চিত্র সূচি বৈচিত্র্যময় এবং উচ্চমানের কাজের সমাহার। দর্শকরা শীঘ্রই এই চলচ্চিত্রগুলোতে মুগ্ধ হয়ে নতুন সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বছরটি বিনোদন জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে, যা শিল্পের পুনরুজ্জীবনকে ত্বরান্বিত করবে।
প্রতিটি চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টুডিও ও বিতরণকারীর ঘোষণার অপেক্ষা করা হবে। দর্শকরা আগাম টিকিট বুকিং এবং প্রি-সেলসের মাধ্যমে এই বড় স্ক্রিনের অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চভাবে উপভোগ করতে পারবেন।



