19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনঅ্যানেট ডায়োনের মৃত্যু, ডায়োন কুইন্টেটের শেষ বেঁচে থাকা সদস্য ৯১ বছর বয়সে...

অ্যানেট ডায়োনের মৃত্যু, ডায়োন কুইন্টেটের শেষ বেঁচে থাকা সদস্য ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমন

অ্যানেট ডায়োন, কানাডার বিখ্যাত ডায়োন কুইন্টেটের শেষ বেঁচে থাকা বোন, ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ডায়োন কুইন্টেট হোম মিউজিয়াম এই তথ্য প্রকাশ করেছে এবং তার বিদায়ের প্রস্তুতি জানিয়েছে।

ডায়োন কুইন্টেট পাঁচটি একসাথে জন্ম নেওয়া ভ্রাতিজী, ১৯৩৪ সালে অন্টারিওতে গৃহযুদ্ধের সময়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা প্রথম পরিচিত কুইন্টেট হিসেবে শৈশব অতিক্রম করে এবং বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে।

শৈশবে তারা চলচ্চিত্রে অভিনয়, ম্যাগাজিনের কভারে উপস্থিতি এবং টুথপেস্ট থেকে সিরাপ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন মুখে পরিণত হয়। তাদের জনপ্রিয়তা তখনকার মিডিয়া ও ভোক্তা সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

মিউজিয়াম উল্লেখ করেছে যে অ্যানেট শিশু অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ডায়োন কুইন্টেটের ইতিহাসকে সংরক্ষণ এবং তাদের বিতর্কিত শৈশবের বাস্তবতা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মিউজিয়ামের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা প্রদর্শনী, শিক্ষা কর্মশালা এবং গবেষণা প্রকল্প চালু করেছে।

শৈশবেই অন্টারিও সরকার এই পাঁচ বোনকে তাদের পিতামাতার কাছ থেকে আলাদা করে “কুইন্টল্যান্ড” নামে একটি কম্পাউন্ডে রাখে। সেখানে তারা পর্যটকদের জন্য প্রদর্শনী বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কুইন্টল্যান্ডে শিশুরা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধীন ছিল এবং পরিবারিক সংস্পর্শ সীমিত ছিল। এই সময়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনকে একটি প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

বছরের পর বছর পর, সরকার শেষমেশ পিতামাতার কাছে কুইন্টেটদের হস্তান্তর করে। পিতামাতা পুনরায় সন্তানদের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পায় এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবারিক পরিবেশে ফিরে আসে।

বয়স্ক অবস্থায় অ্যানেট, সিসিল এবং ইভোনে অন্টারিও সরকারের বিরুদ্ধে শৈশবের সময়ের অবিচারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালে তারা প্রায় ৩ কোটি কানাডিয়ান ডলার সমন্বিত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।

অ্যানেট ডায়োনের মৃত্যুর মাধ্যমে ডায়োন পরিবারে বেঁচে থাকা শেষ সদস্যের শেষ নিঃশ্বাস নেয়া হয়। ডায়োন কুইন্টেট হোম মিউজিয়াম জানায়, তিনি মোট ১৪ সন্তান মধ্যে শেষ বেঁচে থাকা।

অ্যানেটের বড় বোন ইমিলি ১৯৫৪ সালে, মারি ১৯৭০ সালে এবং ইভোনে ২০০১ সালে মারা গেছেন। সিসিলও এই বছরই মৃত্যুবরণ করেন, যা ডায়োন কুইন্টেটের জীবিত সদস্যের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে দেয়।

অ্যানেটের জীবন ও কাজের মাধ্যমে শিশু অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে। তার স্মৃতি মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা উপকরণ হিসেবে কাজ করবে।

ডায়োন কুইন্টেটের শৈশবের বিতর্কিত ইতিহাস এখনো গবেষণা ও আলোচনার বিষয়। মিউজিয়াম এই বিষয়গুলোকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে, যাতে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।

অ্যানেটের মৃত্যু ডায়োন কুইন্টেটের জীবিত স্মৃতির সমাপ্তি চিহ্নিত করে, তবে মিউজিয়ামের প্রচেষ্টা এবং জনসাধারণের আগ্রহ এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে জীবিত রাখবে। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের জন্য এই গল্পটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments