মায়ানমার পাঁচ বছর পর আবার ভোটের মঞ্চে ফিরে এসেছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে শাম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভেঙে গিয়েছে, তাদের নেতারা জেলে, এবং চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের অর্ধেক অংশ ভোট দিতে পারবে না। সামরিক শাসন এই নির্বাচনকে ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে, যা ২০২১ সালের কুপের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভোটের প্রক্রিয়া দেশজুড়ে একসাথে না হয়ে, অঞ্চলভিত্তিক ধাপে ধাপে চালু করা হয়েছে। কুপের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বাতিল করা হয়েছে, বহু নেতা দীর্ঘকালীন কারাদণ্ডে বসে আছেন। গৃহযুদ্ধের তীব্রতা এবং সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে ভোটের সুযোগই নেই, ফলে অর্ধেক নাগরিক ভোটের বাইরে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে তীব্র সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
সামরিক শাসন জুলাই মাসে নতুন আইন প্রণয়ন করে, যার অধীনে ভোটের প্রতিবন্ধকতা বা বিরোধে জড়িত ২০০‑এর বেশি ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই আইনের শাস্তিতে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত, যা মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের কারণ হয়েছে। আইনটি বিশেষভাবে নির্বাচনী প্রচার ও সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে, ফলে প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ হয়েছে।
নতুন আইনের প্রয়োগে চলচ্চিত্র পরিচালক মাইক টি, অভিনেতা ক্যাও উইন হ্তুত এবং কমেডিয়ান ওহ্ন ডেইংকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী প্রচারমূলক একটি চলচ্চিত্রের সমালোচনা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই তিনজনের দোষারোপের মাধ্যমে শাসনকে সমর্থনকারী মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রকাশনায় আত্ম-সেন্সরশিপ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভল্কার তুর্কের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মত প্রকাশ, সমাবেশ ও সংস্থার স্বাধীনতার কোনো শর্ত পূরণ হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নাগরিকদের বিভিন্ন দিক থেকে জবরদস্তি করা হচ্ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। তুর্কের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শাসনের ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ত্রধারী বিদ্রোহী গোষ্ঠীও ভোটের বিরোধে জনগণকে ভোট না দিতে আহ্বান জানাচ্ছে। তারা ভোটের দিন পর্যন্ত হুমকি ও সহিংসতার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলেছে। তুর্কের বিবৃতিতে এই হুমকিগুলোকে উল্লেখ করে শাসনের উপর বাড়তি চাপ



