আলু উৎপাদনের পরিমাণে অতিরিক্ততা এবং চাহিদার ঘাটতির ফলে বাজারে দাম দ্রুত পতন ঘটেছে, ফলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের আলু উৎপাদন রেকর্ডে শীর্ষে থাকলেও, উৎপাদিত ফলনের অধিকাংশই শিল্পে ব্যবহার না হওয়ায় মূল্য স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন।
বাজারে দাম হ্রাসের চক্রটি পুনরাবৃত্তি হওয়ায় প্রায় অর্ধেক কোটি কৃষক ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আটকে আছেন; ভাল ফসলের বছরে ঋণ বাড়ে, খারাপ বছরে জনসাধারণের অসন্তোষ বাড়ে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদাররা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ উৎপাদন নয়, বরং নীতি ও পরিকল্পনায় আলুর অবস্থান।
বাংলাদেশে আলুকে মূলত ভাতের সঙ্গে খাওয়া সবজি হিসেবে গণ্য করা হয়, অন্য দেশের মতো শিল্পিক কাঁচামাল হিসেবে নয়। এই পার্থক্যটি মূল্য গঠন ও আয় স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলে। উৎপাদন বাড়লে, চাহিদা পূরণ না হলে দাম দ্রুত কমে যায়, ফলে কৃষকরা ক্ষতি স্বীকার করে, আর দেশের অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের সুযোগ হারায়।
বিশ্বে আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে, তবে শিল্পিক ব্যবহার খুবই কম। চীনে আলুর প্রায় ১৫ শতাংশ শিল্পে যায়, ইউরোপের দেশগুলোতে এই হার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে, আর রাশিয়া ও ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রতিবেশী ভারতও ৫ থেকে ৭ শতাংশই শিল্পে ব্যবহার করে। তুলনায় বাংলাদেশে মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ আলুই প্রক্রিয়াকরণে যায়, যা শিল্পিক ব্যবহারকে সীমিত করে।
এই পার্থক্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় প্রভাব ফেলে। যেখানে অন্যান্য দেশগুলোতে অতিরিক্ত উৎপাদন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তরিত হয়, বাংলাদেশে অতিরিক্ত উৎপাদন সরাসরি দামকে নিচে টেনে নিয়ে যায়। ফলে কৃষকের আয় অনিশ্চিত থাকে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ে।
আলু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফসল, যা খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তবে ফসলে পরিণত হওয়ার পর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফল হারিয়ে যায়, যা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (FAO) অনুযায়ী সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার ঘাটতির কারণে।
প্রান-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল উল্লেখ করেছেন, দেশের আলু শিল্পের উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াকরণ বাড়লে অতিরিক্ত উৎপাদনকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রূপান্তরিত করা সম্ভব, যা কৃষকের আয় বাড়াবে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। তরিক রাহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সন, ১৯ বছর পর তার পিতার কবরের সামনে প্রার্থনা করেছেন। এই অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি ও বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথের সংযোগ দেখা যায়।
এই দুই বিষয়ই দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। আলুর দাম ও কৃষক ঋণবহুল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য নীতি নির্ধারকদের শিল্পিক ব্যবহার বাড়াতে, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। একইসাথে, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা নীতি প্রণয়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যতে, যদি সরকার আলুর শিল্পিক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে, প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের সংখ্যা বাড়ায় এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, তবে উৎপাদনের অতিরিক্ততা মূল্য পতনে রূপান্তরিত হবে না। এভাবে কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সংরক্ষণে মনোযোগ দিলে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



