20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে চীনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে চীনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) থেকে সরকারী সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণটি চীনের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংস্থার পক্ষ থেকে এসেছে এবং তা দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসারকে লক্ষ্য করে।

সিপিসি কর্তৃক জানানো এই আমন্ত্রণের পর, ২২ জুনের দিকে একটি উচ্চস্তরের দল চীনে পৌঁছায়। দলটির নেতৃত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন এবং তিনি দলের বিভিন্ন শীর্ষ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন। দলটি বেইজিংয়ের গ্রেট হলে (বিগ হল) পৌঁছে সিপিসি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে।

বৈঠকের সময় চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং, সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া দলটির চীনের নীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতি আগ্রহকে প্রকাশ করে।

বিএনপি কর্মকর্তারা জানান, চীন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এই ধরণের সফর সেই লক্ষ্যকে সমর্থন করে। তারা উল্লেখ করেন, চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তারেকের সফর কেবল পারস্পরিক সম্পর্কের সূচনা নয়, বরং দু’দেশের বাণিজ্যিক বিনিময়, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করে, উল্লেখ করেন যে চীন শুধুমাত্র বিএনপি নয়, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ও সংলাপ বজায় রাখছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে সমগ্রভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং বিভিন্ন দলকে সমন্বিতভাবে যুক্ত করতে চায়।

চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগের ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগের পরিসরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামো, শক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের প্রকল্পগুলোতে চীনের অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চীনের বৃহৎ বাজার ও আর্থিক সম্পদ বাংলাদেশের রপ্তানি ও ঋণ ব্যবস্থার জন্য নতুন দিক খুলে দিতে পারে। তদুপরি, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

বিএনপি এবং চীনের পূর্বের সম্পর্কের ইতিহাসে দেখা যায়, দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে এই নতুন আমন্ত্রণ এবং আসন্ন সফরকে দু’পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, চীনের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন দিকটি কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং আঞ্চলিক গতিবিধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি মিথস্ক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই সফরকে কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments