যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেইন ও ফিড আপডেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (মার্কেটিং ইয়ার) দেশের ধানের মোট উৎপাদন ৩.৭৬ কোটি টন পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা পূর্ববর্তী বছরের ৩.৬৬ কোটি টনের তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ টনের বৃদ্ধি। এই অনুমান দেশের প্রধান শস্যের উৎপাদন ক্ষমতা ও বাজারের গতিবিধি উভয়ই প্রভাবিত করবে।
USDA-এর তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের শেষ ফসল হিসেবে আমান ধান (Aman) বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলে চাষের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ইতিমধ্যে ফসল তোলা সম্পন্ন হয়েছে, আর দক্ষিণাঞ্চলে ডিসেম্বর ২০২৫ শেষের দিকে ফসল তোলার কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা উচ্চতর উৎপাদন খরচের পরেও ভাল ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। USDA-র সূত্রে, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (DAE) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে, আমান ধানের চাষের ক্ষেত্রফল প্রায় ৫৮ লক্ষ হেক্টর, যার মোট উৎপাদন ১.৪৮ কোটি টন অনুমান করা হয়েছে। বিভিন্ন কৃষি অফিসের রিপোর্টে এই মৌসুমে ফসলের গুণগত মান ও পরিমাণ উভয়ই সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোরো ধান (Boro), যা অর্থবছরের প্রথম ফসল, তার চাষের ক্ষেত্রফল একই রকম থাকবে বলে USDA পূর্বাভাস দিয়েছে, এবং উৎপাদন ২.০৫ কোটি টন নির্ধারিত হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ধানের উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরের ২১ লক্ষ টন থেকে বাড়িয়ে ২৩.৫ লক্ষ টন করা হয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ট্রেলিয়ান ধানের সরবরাহ বাড়বে, যা বাংলাদেশের আমদানি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও, দেশের ধানের দাম সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB) এর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫-এ গুঁড়ো ধানের গড় খুচরা মূল্য প্রতি কিলোগ্রামে ৫৭.০৩ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে উচ্চমানের সূক্ষ্ম ধানের দাম প্রতি কিলোগ্রামে ৭৮.৩ টাকা, যা ৫.৭ শতাংশ বাড়তি মূল্য নির্দেশ করে।
দামের এই উত্থান মূলত উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি, লজিস্টিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ধানের মূল্যের ওঠানামা ও মুদ্রা মূল্যের পরিবর্তনের ফলে ঘটছে। যদিও দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি উভয়ই বাড়লেও, বাজারে সরবরাহের চাহিদা তুলনায় সামান্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ধানের উৎপাদন বাড়লেও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সঞ্চয় গুদাম থেকে সরবরাহ বাড়ানো, সাপ্লাই চেইন উন্নত করা এবং কৃষকদের জন্য উৎপাদন খরচ কমানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ধানের উৎপাদন ও মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি পদ্ধতি ও আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি গ্রহণ জরুরি।
সারসংক্ষেপে, USDA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ধানের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তবে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। উৎপাদন বাড়াতে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নীতি নির্ধারকদের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং গ্রাহকদের উপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমানো যায়।



