প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে গোলের উৎসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। দুই দশক ধরে গার্ডিয়োলিস্টা মতবাদে আধিপত্যকারী ফুটবলে এখন পজেশন, প্রেস ও স্পেসের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের বদলে সেট‑পিসের ভূমিকা বাড়ছে। এই পরিবর্তন অক্টোবর মাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন দীর্ঘ থ্রো‑ইনের সম্ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছিল।
গত দুই দশকে দলগুলো বলের মালিকানা, উচ্চ প্রেস এবং অবস্থানগত নিয়ন্ত্রণকে মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ করত। উন্নত মানের মাঠের কারণে প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি কমে গিয়েছিল, ফলে খেলোয়াড়রা বিকল্প পথ বিশ্লেষণে বেশি সময় ব্যয় করতে পারত। এই সময়ে ফুটবলকে বলের সঙ্গে দাবার মতো কৌশলগত খেলা হিসেবে দেখা হতো।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেট‑পিসের গুরুত্ব পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। নিকোলাস জোভার, অস্টিন ম্যাকফি এবং বার্নার্ডো কুয়েভা সহ একদল বিশেষজ্ঞ কোচ এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের স্ট্যান্ডার্ডকে বদলে দিয়েছেন। তাদের কাজের ফলে কোণ ও থ্রো‑ইন থেকে গোলের শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মৌসুমে কোণ বা থ্রো‑ইন থেকে গোলের হার ২১.৮% এ পৌঁছেছে, যা গত মৌসুমের ১৩.৯% থেকে প্রায় আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে রেফারির সিদ্ধান্তে পরিবর্তনও ভূমিকা রাখে। গোলকিপারের ওপর চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে রেফারির অনুমোদন বাড়ার ফলে খেলোয়াড়রা আরও আক্রমণাত্মকভাবে এগোতে পারছে।
একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণে ডেভিড ব্রুকস গিয়ানলুইজি ডোনারুম্মারকে ধরা দিয়ে বোর্নমাউথের গোলের প্রস্তুতিতে অংশ নেন। রেফারির মতে, ডোনারুম্মা বলের এলাকা প্রবেশের আগে ব্রুকসের হাত ছেড়ে দেওয়ায় কোনো ফাউল ধরা হয়নি। এই ঘটনা রেফারির অনুমোদনকে অতিরিক্ত লিবারেল হিসেবে সমালোচনার দিকেও নিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে রেফারির এই ধরনের লিবারেলতা কখনও কখনও অতিরিক্ত হয়ে যায়, যা খেলায় শারীরিক সংঘর্ষের সীমা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি সেট‑পিসের ব্যবহারকে উত্সাহিত করে, কারণ দলগুলো এখন গোলকিপারের ওপর চ্যালেঞ্জকে ঝুঁকি হিসেবে কম বিবেচনা করে।
কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পুরনো পদ্ধতিগুলোকে নতুন পরিবেশে পুনর্নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে। এটি কোনো চক্রাকার প্যাটার্ন নয়, বরং পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের ফলে উদ্ভূত দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর ফল। গার্ডিয়োলিস্টা মতবাদের স্থিতিশীলতা ভেঙে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে দলগুলো প্রতিপক্ষের দুর্বলতা শনাক্ত করে ব্যবহার করছে।
এই পরিবর্তনের ফলে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতে গোলের উৎসের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কোণ ও থ্রো‑ইনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা আরও বহুমুখী হয়ে উঠেছে। ফলে দর্শকরা এখন কেবল পজেশন গেমই নয়, সেট‑পিসের নাটকীয় মুহূর্তও উপভোগ করতে পারছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই মৌসুমে গার্ডিয়োলিস্টা ধারণার ভাঙ্গন এবং সেট‑পিসের উত্থান ফুটবলের কৌশলগত দিগন্তকে পুনর্গঠন করছে। দলগুলো এখন স্পেসের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোণ ও থ্রো‑ইনের মাধ্যমে গোলের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী রাউন্ডে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও কোনো দল বা খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সের পূর্বাভাস এখানে দেওয়া সম্ভব নয়। কেবলমাত্র বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, সেট‑পিসের গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
ফুটবলের এই রূপান্তর কেবল কৌশলগত দিকেই নয়, রেফারির সিদ্ধান্তের পরিবর্তনেও প্রতিফলিত হচ্ছে। রেফারির লিবারেলতা এবং কোচদের সেট‑পিসে জোরের সমন্বয়ই এখন গেমের গতিপথ নির্ধারণ করছে।
সারসংক্ষেপে, প্রিমিয়ার লিগে গোলের উৎসে কোণ ও থ্রো‑ইনের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, রেফারির অনুমোদন বাড়েছে এবং পুরনো কৌশলকে নতুন রূপে পুনর্নির্মাণের প্রবণতা স্পষ্ট। এই পরিবর্তনগুলো ফুটবলের কৌশলগত পরিমণ্ডলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।



