বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রাহমান আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ দুটো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আজ প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে। তিনি ১৯ বছর পর পিতার সমাধিতে প্রার্থনা শেষ করে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন, যা তার রাজনৈতিক পুনরাগমনের প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তারিকের সমাধি সফর তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; পিতার স্মরণে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সমাধি থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি ভোটারদের কাছে তার নীতি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন, যা নির্বাচনী প্রচারণার মূল সুর হবে।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য সালাহুদ্দিন আহমেদ আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তারিকের দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ এবং নির্বাচনী তালিকায় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সালাহুদ্দিন আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালীব রাহমান পার্থো ঢাকা-১৭ আসন ত্যাগ করে ভোলা-১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পরিবর্তন পার্টির নির্বাচনী কৌশলকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং ভোলা-১ অঞ্চলে নতুন প্রোফাইলের প্রার্থী হিসেবে পার্থোকে উপস্থাপন করা হবে।
বিএনপি পূর্বে ঘোষণা করেছিল, পার্টির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একাধিক আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বগুড়া-৭, দিনাজপুর-৩ এবং ফেনি-১ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন, যা পার্টির ঐতিহাসিক শক্তি অঞ্চলকে পুনরায় জোরদার করার উদ্দেশ্য বহন করে।
এই ঘোষণার পর পার্টির অভ্যন্তরে কৌশলগত আলোচনা চালু হয়েছে; দু’টি আসনে তারিকের উপস্থিতি ভোটার ভিত্তি বিস্তৃত করতে এবং শহুরে ও গ্রামীণ ভোটারদের সমন্বয় ঘটাতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তারিকের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বিদেশে থাকা সময়ের পর ফিরে আসা তাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেবে।
বিজেপি পক্ষ থেকে আন্দালীব রাহমান পার্থোর ভোলা-১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তকে পার্টির আঞ্চলিক শক্তি বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পার্থো পূর্বে ঢাকা-১৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছিলেন, তবে নতুন কৌশল অনুযায়ী তিনি ভোলা-১-এ তার প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য রাখছেন।
অবশ্যই, সরকারী দলও এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও আজকের প্রতিবেদনে সরকারী পক্ষের সরাসরি মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত নেই, তবে নির্বাচনী পরিবেশে সব দলই কৌশলগত সমন্বয় করে চলেছে বলে অনুমান করা যায়।
ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন দুটোই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ; ঢাকা-১৭ শহুরে ভোটারদের সমাবেশস্থল, যেখানে বগুড়া-৬ গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন কেন্দ্রীভূত। তারিকের উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পার্টির ভোটার সংযোগ বাড়াতে এবং দুই অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ঘটাতে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীর নাম নিবন্ধন, ভোটার তালিকায় আপডেট এবং প্রচারণা শুরু হওয়ার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। তারিক রাহমানের দল ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে দলীয় কর্মী গঠন, সমাবেশ ও জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিলের কথা জানানো হয়েছে। এই তথ্যের প্রকাশ রাজনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত দৃষ্টিকোণ যোগ করে, যদিও তা সরাসরি তারিকের নির্বাচনী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নয়।
সামগ্রিকভাবে, তারিক রাহমানের দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, প্রতিপক্ষের আসন পরিবর্তন এবং নির্বাচনের পূর্বে উন্মুক্ত রাজনৈতিক আলোচনায় এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে প্রার্থীর নাম নিবন্ধন, প্রচারণা সূচনা এবং ভোটার সংযোগের জন্য বিভিন্ন সভা-আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে সকল রাজনৈতিক দলই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।
নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং তারিক রাহমানের দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে।



