সাম্প্রতিক TechCrunch Disrupt সম্মেলনে তিনজন শীর্ষ বিনিয়োগকারী – Insight Partners‑এর থমাস গ্রিন, Moxxie Ventures‑এর কেটি স্ট্যানটন এবং GV‑এর সাঞ্জিন জেব – সিরিজ‑এ তহবিল সংগ্রহের বর্তমান প্রয়োজনীয়তা ও মূল্যায়ন মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। তারা স্টার্ট‑আপের বাজার পরিবেশের পরিবর্তন, AI বুমের প্রভাব এবং প্রতিষ্ঠাতার গুণাবলির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বাজারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের রাউন্ডের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, তবে গড় ডিলের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিন উল্লেখ করেন যে এই প্রবণতা একটি গবেষণার ফলাফল, যা দেখায় যে বিনিয়োগকারীরা কম সংখ্যক, তবে বড় পরিমাণের রাউন্ডকে বেশি পছন্দ করছেন।
স্টার্ট‑আপের পরিবেশে একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে: প্রতিষ্ঠা করা সহজ হলেও, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনটি উদ্যোক্তাদেরকে কেবল আইডিয়া নয়, দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশলও তৈরি করতে বাধ্য করছে।
GV‑এর মূল্যায়ন পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার উপর ভিত্তি করে, যেখানে পণ্য‑বাজারের সামঞ্জস্য, চাহিদার প্রবণতা এবং ত্রৈমাসিক বিক্রয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা হয়। জেবের মতে, একটি স্টার্ট‑আপের প্রত্যেক ত্রৈমাসিক পূর্বের তুলনায় উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে, যাতে বিনিয়োগের যোগ্যতা নিশ্চিত হয়।
এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিক্রয় পুনরাবৃত্তি করার সক্ষমতা এবং বৃহৎ, বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা। স্ট্যানটন জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিষ্ঠাতা দলকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নিয়মিতভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী স্কেল করতে সক্ষম।
গ্রিনের দৃষ্টিতে, সব স্টার্ট‑আপকে ভেঞ্চার‑স্কেল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি কোনো কোম্পানি বড় ব্যবসা গড়ে তোলার সম্ভাবনা না দেখে, তবে বিশাল তহবিল গ্রহণের কোনো অর্থ নেই।
বেশিরভাগ উদ্যোক্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, তারা শত কোটি ডলারের ঊর্ধ্ব তহবিলের পেছনে না ছোড়ে, বরং তাদের ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত মূলধন সংগ্রহে মনোযোগ দিক। এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
প্রতিষ্ঠাতার গুণাবলি সম্পর্কে তিনজনই একমত যে, উত্সাহ ও সহনশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যানটন উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী যাত্রা সহ্য করতে সক্ষম, উত্সাহী প্রতিষ্ঠাতা দলই সফলতার মূল চালিকাশক্তি।
জেবও একই মত প্রকাশ করেন, তিনি বলেন যে, প্রতিষ্ঠাতার উত্সাহ ও দৃঢ়সংকল্পই বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা রাখে। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্টার্ট‑আপের মানবিক দিককে আর্থিক সূচকের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেয়।
AI প্রযুক্তি কেন্দ্রিক স্টার্ট‑আপের আলোচনায় গ্রিন স্পষ্ট করেন যে, AI না হলেও কোনো কোম্পানি মূল্যবান সম্পদ ও স্বতন্ত্র গুণাবলি ধারণ করতে পারে। তাই, অ‑AI সেক্টরের কোম্পানিগুলোকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
AI‑ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি মৌলিক নীতিগুলোর ওপর জোর দেন: বাজারে প্রচুর প্রতিযোগী, পুরনো ও নতুন উভয়ই, পাশাপাশি বড় প্ল্যাটফর্মের উপস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবসার মূল কাঠামোকে দৃঢ় করা প্রয়োজন। এই পদ্ধতি বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে পার্থক্য গড়ে তুলতে সহায়ক।
সারসংক্ষেপে, বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল আর্থিক মেট্রিক্স নয়, প্রতিষ্ঠাতার উত্সাহ ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। AI বুম বাজারকে রূপান্তরিত করলেও, মৌলিক ব্যবসায়িক নীতি ও ধারাবাহিক বৃদ্ধি এখনও মূল চাবিকাঠি হিসেবে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে, এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে আরও সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত সিরিজ‑এ তহবিলের প্রবাহ প্রত্যাশিত।



