27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকরাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের মির্নোগ্রাদ ও গুলিয়াইপোল শহর দখল দাবি করেছে

রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের মির্নোগ্রাদ ও গুলিয়াইপোল শহর দখল দাবি করেছে

রাশিয়া শনিবার পূর্ব ইউক্রেনের দুটো শহর দখল করেছে বলে জানিয়েছে, মির্নোগ্রাদ ও গুলিয়াইপোল। এই ঘোষণার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যাচ্ছেন।

মির্নোগ্রাদ ডোনেটস্ক অঞ্চলের পোকরভস্কের নিকটে অবস্থিত, যা রাশিয়া ১ ডিসেম্বর থেকে লজিস্টিক হাব হিসেবে দাবি করে। গুলিয়াইপোল জাপোরিজিয়া প্রদেশের পূর্ব অংশে, যেখানে সাম্প্রতিক মাসে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ক্রেমলিনের একটি বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সামরিক কমান্ড থেকে মির্নোগ্রাদ (রাশিয়ান নাম দিমিত্রোভ) ও গুলিয়াইপোলের “মুক্তি” সম্পর্কে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। পুতিন টেলিভিশনে এই দুই অঞ্চলের সামরিক চাপ বাড়ার কথা উল্লেখ করেন।

পুতিনের মতে, সামরিক অভিযানগুলো ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং যুদ্ধের গতিপথকে প্রভাবিত করে। তিনি যুক্তি দেন, যদি কিয়েভের সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধান না চায়, তবে রাশিয়া সামরিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করবে।

জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের বৈঠকটি রাশিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতির এক দিন আগে নির্ধারিত। দু’জন নেতার আলোচনার মূল বিষয় হল যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া, যা রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে লক্ষ্য করে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রাশিয়ার এই ঘোষণাকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষ করে গুলিয়াইপোলের দখল রাশিয়ার জাপোরিজিয়া প্রদেশে অগ্রগতির নতুন দিক নির্দেশ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিকিউরিটি ও ডিফেন্স পলিসি বিশ্লেষক অ্যানা কোরেলসন বলেন, “মির্নোগ্রাদ ও গুলিয়াইপোলের দখল রাশিয়ার কৌশলগত লাইনকে পূর্ব দিকে প্রসারিত করে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জালকে জটিল করে তুলছে।” তিনি যুক্তি দেন, রাশিয়া এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ্লোম্যাটিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে ইউক্রেনের সীমানা অখণ্ডতা ও রাশিয়ার সামরিক ক্রিয়াকলাপের ওপর কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাশিয়া এই শর্তগুলোকে “অবৈধ হস্তক্ষেপ” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষকরা পূর্ব ইউক্রেনের লজিস্টিক নেটওয়ার্কে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে গুলিয়াইপোলের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন। এই শহরটি রেলওয়ে ও সড়ক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু, যা সামরিক সরবরাহের গতি বাড়াতে সহায়তা করবে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই দুই শহরের দখল স্বীকার করেনি এবং বলছে, রাশিয়ার দাবি “অবৈধ ও অপ্রমাণিত”। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন চায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নাগরিক ক্ষতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা গুলিয়াইপোল ও মির্নোগ্রাদের আশেপাশের বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পরবর্তী সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের জন্য ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থা সম্ভাব্য সমন্বয় সভা আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে। এই সভাগুলোতে রাশিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রভাব ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments