গত সপ্তাহান্তে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সমাপ্তি পায়। আর্সেনাল এমিরেটস স্টেডিয়ামে ব্রাইটনকে ২-১ স্কোরে হারিয়ে লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে, আর ম্যানচেস্টার সিটি নটিংহাম ফরেস্টকে ২-১ জিতে অল্প সময়ের জন্য আবার টেবিলে প্রথম স্থান দখল করে।
আর্সেনালের জয় মূলত মাঝখানের দিক থেকে গড়ে ওঠে। মর্নিং স্টার্টে মর্তিন ওডেগার্ডের চমৎকার শটই একমাত্র গোলের সূত্রপাত করে, যা প্রথমার্ধে দলকে এগিয়ে রাখে। ডিক্লান রাইসের কর্নার থেকে জর্জিনিও রাটারের নিজস্ব জালে বল গিয়ে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করে, ফলে সাইডলাইন থেকে রাইসের কিকটি নিজস্ব নেটের দিকে যায়।
ব্রাইটনের ডিয়েগো গোমেজের একক গোলের মাধ্যমে সমতা ভেঙে যায়, তবে আর্সেনালের ডেভিড রায়া এক চমকপ্রদ সেভ দিয়ে ইয়াঙ্কুবা মিন্টেহের গড়িয়ে দেওয়া শটকে থামিয়ে দেয়। রায়ার এই রক্ষার ফলে গুলিবিদ্ধে দলটি একক গোলের সুবিধা বজায় রাখতে সক্ষম হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১-০ পার্থক্যে ম্যাচটি শেষ হয়।
এই জয় আর্সেনালের জন্য মৌসুমে তেরটি জয়ের মধ্যে সপ্তমবার একক গোলের মাধ্যমে জয়লাভের সূচক, যা দলটির রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও সূক্ষ্ম ত্রুটি সংশোধনের ক্ষমতা প্রকাশ করে। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দলটি গেম শেষ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা কোচ মিকেল আর্টেটারকে ভবিষ্যতে আরও মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি লাঞ্চটাইমে সিটি গ্রাউন্ডে নটিংহাম ফরেস্টের মুখোমুখি হয়। রায়ান চের্কির উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দলকে জয়লাভে সহায়তা করে। চের্কি প্রথমার্ধে টিজজানি রেইজন্ডার্সকে পাস দিয়ে স্কোরের সূচনা করে, যা সিটিকে দ্রুত আক্রমণমূলক সুবিধা দেয়।
ফরেস্টের ওমারি হাচিনসন দ্রুতই সমতা পুনরুদ্ধার করে, তবে চের্কি ৮৩ মিনিটে জোসকো গভার্ডিয়লের নিকট থেকে নিক্ষিপ্ত বলকে সঠিকভাবে গন্তব্যে পাঠিয়ে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন। তার এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সিটিকে অষ্টম ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের পরিপ্রেক্ষিতে পেপ গুআর্ডিওনা দলের শারীরিক অবস্থার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিসমাসের পর অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে এখন পুরো দলই ফিট, এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করলে খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া হতে পারে। এই সতর্কতা দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইয়ানফিল্ডে লিভারপুল ও উলভসের মুখোমুখি ম্যাচেও উত্তেজনা কম ছিল না। লিভারপুল ২-১ স্কোরে উলভসকে পরাজিত করে, যেখানে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ লিভারপুলের হয়ে প্রথম গোল করেন। এই গোলটি তার লিভারপুলের জন্য প্রথম গোল হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
উলভসের সমতা পুনরুদ্ধার করার পরেও লিভারপুলের আক্রমণাত্মক চাপ অব্যাহত থাকে, এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি লিভারপুলের পক্ষে শেষ হয়। উইর্টজের এই গোলটি তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে অ্যানফিল্ডের উজ্জ্বল পরিবেশে।
উভয় ম্যাচের ফলাফল পরবর্তী সপ্তাহের লিগ সূচিতে প্রভাব ফেলবে। আর্সেনাল শীর্ষে ফিরে আসার পর পরের ম্যাচে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হবে, আর সিটি শীর্ষে ফিরে আসার পর তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করবে। লিভারপুলের জয় তার লিগ অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং উলভসের জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করবে।



